৵৵৵ চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ৮/৮



বিষয় : - চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ১

শ্রীযুক্ত কালীচরন মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের ঝোলা থেকে বের হওয়া চন্দননগরের ইতিহাস সম্বন্ধীয় স্মৃতিচারণ থেকে কিছু অংশ  পাঠকসমাজের সামনে ধারাবাহিক ভাবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য এই লেখনী। 

বিষয় : - চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ১

চন্দননগর 1673 সালে একটি ফরাসি উপনিবেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন ফরাসিরা হুগলি নদীর ডান তীরে একটি বাণিজ্য পোস্ট স্থাপনের জন্য বাংলার নবাব ইব্রাহিম খানের কাছ থেকে অনুমতি লাভ করে। 

সে বছর (1673-74) ফরাসি সেনাপতি ডুপ্লেসিস বাংলার তৎকালীন নবাব ইব্রাহিম খানের অনুমতি নিয়ে বর্তমান চন্দননগরের উত্তরাঞ্চলের তালডাঙ্গায় একটি প্লট সংগ্রহ করে একটি বাড়ি তৈরি করেন। 

বাংলা তখন মুঘল সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ ছিল। 

এটি 1688 সালে ফরাসি বন্দোবস্তায় একটি স্থায়ী বাণিজ্য পোস্ট হয়ে ওঠে এবং 1730 সালে জোসেফ ফ্রাঙ্কোইস ডুপ্লেক্স শহরের গভর্নর নিযুক্ত হন।

তার প্রশাসনের সময় শহরে দুই হাজারেরও বেশি ইটের ঘর তৈরি করা হয়েছিল এবং একটি উল্লেখযোগ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছিল। 

এক সময় চন্দননগর ছিল বাংলায় ইউরোপীয় বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। যদি ও দুইশত বছর ধরে সারা ভারতবর্ষ একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল, কিন্তু চন্দননগর স্বাধীন ফরাসি শাসিত ছিল ভারতের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরিই ভিন্ন।

তারপর 1687 সালে ফরাসি সেনাপতি ডেসল্যান্ডেস হুগলির ব্যান্ডেলে ব্যবসা শুরু করেন।

কিন্তু পরবর্তি সময়ে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে তিনি হুগলির অন্য গেটপ্লেসে স্থানান্তর করার চেষ্টা করেন এবং চন্দননগরে ডুপ্লেসিসের প্রাপ্ত জায়গায় একটি নতুন ফার্ম তৈরির জন্য নবাবের অনুমতি নিতে ব্যর্থ হন। 

শেষপর্যন্ত ফরাসিরা পরের বছরে মোগল সরকারকে (অরঙ্গজেব তখন সম্রাট ছিলেন) 40,000/- রুপি পরিশোধ করে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় শুল্কমুক্ত ব্যবসা করার অনুমতি পায় । 

                                       ৵    ক্রমশঃ       

-----------------------------------------------------------------------

                      ৵   卐 খন্ড ২ 卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ২ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

শেষপর্যন্ত ফরাসিরা পরের বছরে মোগল সরকারকে (অরঙ্গজেব তখন সম্রাট ছিলেন) 40,000/- রুপি পরিশোধ করে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় শুল্কমুক্ত ব্যবসা করার অনুমতি পায় । 


ডেসল্যান্ডেস চন্দননগরের ভিত্তি স্থাপন করেন।
কালক্রমে চন্দননগর ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলার সমস্ত বিদেশী বসতিগুলির মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করে। 

এটি বসোরা, চীন, পেগু, জেদ্দা, তিব্বত প্রভৃতির সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখত। তখন চন্দননগর কলকাতার চেয়েও বড় বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল।

1756 সালে ফ্রান্স এবং গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্নেল রবার্ট ক্লাইভ এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল চার্লস ওয়াটসন 23 মার্চ 1757 তারিখে বোমাবর্ষণ করে চন্দননগর ও দখল করেন। 

1763 সালে চন্দননগর ফরাসিদের দ্বারা পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল, কিন্তু 1794 সালে নেপোলিয়নিক যুদ্ধে ব্রিটিশরা পুনরায় চন্দননগর দখল করে নেয়।

1816 সালে চন্দননগরের আশেপাশের 3 বর্গ মাইল (7.8 কিমি 2) ছিটমহল অঞ্চল সহ শহরটি ফ্রান্সকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। 

পন্ডিচেরিতে গভর্নর-জেনারেলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে 1950 সাল পর্যন্ত এটি ফরাসি ভারতের অংশ হিসাবে শাসিত হয়েছিল। 

                                         ৵      ক্রমশঃ       

-----------------------------------------------------------------------

                        ৵ 卐 খন্ড ৩ 卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ৩ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

পন্ডিচেরিতে গভর্নর-জেনারেলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে 1950 সাল পর্যন্ত এটি ফরাসি ভারতের অংশ হিসাবে শাসিত হয়েছিল। 


1900 সালে চন্দননগর  পূর্বের বাণিজ্যিক গুরুত্ব চলে যায়।

তখন এটি ছিল 25,000 চেয়ে সামান্য বেশি জনসংখ্যার সহ কলকাতার একটি শান্ত শহর। 

 ইউরোপীয় শহরটি তার পরিষ্কার প্রশস্ত রাস্তাঘাটের জন্য বিখ্যাত ছিল, যেখানে নদীর তীরে অনেক মার্জিত বাসস্থান রয়েছে।

লুই বোননড নামের প্রথম ইউরোপীয় এদেশে নীল ফসল চাষের পাশাপাশি নীলকুঠি স্থাপন করেন এবং তিনি ছিলেন চন্দননগরের বাসিন্দা। 

বাঙালিদের মধ্যে প্রথম কাপড়ের কলের প্রতিষ্ঠাতা বটকৃষ্ণ ঘোষ এই স্থানের বাসিন্দা ছিলেন। 

দীননাথ চন্দ্র ইউরোপীয় টিংচার এবং অন্যান্য ওষুধ তৈরির কারখানাটি এখানে প্রথম স্থাপন করেছিলেন। এটি ছিল এই অঞ্চলে এই ধরনের প্রথম সংস্থা। 

বেঙ্গল কেমিক্যাল, ইন্ডিয়ান ড্রাগস ইত্যাদির নাম তখনও অজানা ছিল। 

ইন্দ্রকুমার চট্টোপাধ্যায়, বাংলার স্থানের অবস্থান সম্বলিত প্রাচীন মানচিত্রের প্রথম নির্মাতা ও প্রকাশক ছিলেন। তিনি ও এই স্থানের একজন মানুষ।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে চন্দননগর বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে অব্যাহত ছিল ।

তাদের মধ্যে ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। 

                                   ৵     ক্রমশঃ       

-------------------------------------------------------------------

                    ৵     卐 খন্ড ৪   卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ৪ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

তাদের মধ্যে ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। 


1730 সালে তিনি কোম্পানির দরবারী নিযুক্ত হন।

 তিনি ফ্রান্সের রাজা লুই xv এর কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান। 

তিনি 1740 সালে শ্রী নন্দদুলালের মন্দির এবং একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করেন।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেডের কর্নেল রবার্ট ক্লাইভ এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এডমিরাল ওয়াটসন 1757 সালের মার্চ মাসে চন্দননগর দখল করেন। 

এটি ছিল ভারতীয় ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট। 

ব্রিটিশদের সাথে একটি চুক্তির মাধ্যমে চন্দননগর আবার ফরাসিদের দখলে নেয় কিন্তু 1794 সালে আবার তাদের কাছে হেরে যায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত 1816 থেকে 1950 সাল পর্যন্ত শহরটি শাসন করে। 

গালাকুটি 1832 সালে ফরাসি প্রশাসকরা কমিট ডি বিয়েনফাইসেন্স স্থাপন করেন যার প্রধান লক্ষ্য ছিল দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করা । 

1862 সালে, Ecole de saint mare প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে শহরের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- কানাইলাল বিদ্যামন্দির। 

1867 সালে আলফ্রেড কার্জন নারী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি কনভেন্ট স্থাপন করেন। 1871 সালে, ডাক্তার মার্গনের সহায়তায় চন্দননগরে একটি বড় হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। 

1896 সালে, ফরাসি সরকারের দরবারী দুর্গাচরণ রক্ষিত প্রথম ভারতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন যিনি শেভালিয়ার ডি লেজিয়ন ডি'অনারে ভূষিত হন।

1915 সালে চন্দননগরের বিশ জন লোক প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি জনগণের সমর্থনে অংশগ্রহণ করে।

                                   ৵   ক্রমশঃ       

----------------------------------------------------------------------

                       ৵  卐 খন্ড ৫   卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ৫ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

1915 সালে চন্দননগরের বিশ জন লোক প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি জনগণের সমর্থনে অংশগ্রহণ করে।


 "জাতির পিতা" মহাত্মা গান্ধী 1925 সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে জনগণকে অনুপ্রাণিত করতে চন্দননগরের প্রবর্তক আসেন এবং আবার 1927 সালের ডিসেম্বর মাসে। 

12 ই মার্চ 1930 মহাত্মা গান্ধী কুখ্যাত লবণ আইনের বিরুদ্ধে বিখ্যাত ডান্ডি মার্চের জন্য জাতিকে ডাকেন। 

চন্দননগর যুব সমিতি পূর্ণ উদ্যমে আন্দোলনের সমর্থনে এগিয়ে আসে।

তিরিশের দশকে ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলন রূপ নিচ্ছিল এবং ফরাসি সরকারের অধীনে একজন কমিশনার জেনারেল ডঃ হীরেন চ্যাটার্জির নির্দেশনায় চন্দননগর এতে অগ্রণী অংশ নেয়। 

চন্দননগর ফরাসি শাসনের অধীনে থাকায় দলটি এটিকে তাদের জেলা সদর করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ভারত 1947 সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীন হয় এবং 1948 সালের জুন মাসে ফরাসি সরকার একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয় যাতে দেখা যায় যে চন্দননগরের 97% বাসিন্দা ভারতের অংশ হতে চায়। 

1950 সালের মে মাসে, ফরাসিরা ভারত সরকারকে চন্দননগরের উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের অনুমতি দেয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে 2 ফেব্রুয়ারি 1951 সালে শহরটিকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

ডি জুর হস্তান্তর 9 জুন 1952 তারিখে সংঘটিত হয়। 2 অক্টোবর 1955 সালে চন্দননগর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে একীভূত হয়। এবং ভারতের একটি অংশ হয়ে ওঠে।

                                             ৵   ক্রমশঃ       

----------------------------------------------------------------------

                    ৵     卐 খন্ড ৬   卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ৬ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

ডি জুর হস্তান্তর 9 জুন 1952 তারিখে সংঘটিত হয়। 2 অক্টোবর 1955 সালে চন্দননগর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে একীভূত হয়। এবং ভারতের একটি অংশ হয়ে ওঠে।


চন্দননগর (বাংলা উচ্চারণ):

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান বিভাগের হুগলি জেলার হুগলি মহকুমার চন্দননগর পৌরসংস্থার অন্তর্গত একটি শহর। এটি ফরাসডাঙা নামেও পরিচিত।

সাহিত্যের ইতিহাস প্রণেতা এবং ঐতিহাসিক-গবেষক ড. সুকুমার সেন মনে করেন যে, একসময় এই জনপদে চণ্ডীর মন্দির ছিল। 

তাই এই অঞ্চলকে বলা হতো চণ্ডীরনগর। এই চণ্ডীরনগর নাম থেকেই নাকি চন্দননগর নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তবে এ নিয়ে দ্বিমতও রয়েছে।

একসময় চন্দননগর ছিল ফরাসি উপনিবেশ। 

ইংরেজশাসিত কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে ফরাসিশাসিত চন্দননগর। 

কলকাতার মতো চন্দননগরেও আছে স্ট্র্যান্ড, বড়বাজার, বাগবাজার, বউবাজার। 

                                                   ৵       ক্রমশঃ       

---------------------------------------------------------------------

                       ৵  卐 খন্ড ৭    卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ৭ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

কলকাতার মতো চন্দননগরেও আছে স্ট্র্যান্ড, বড়বাজার, বাগবাজার, বউবাজার। 


ফরাসি আমলে চন্দননগরের প্রভূত উন্নতি হয়। 

রাস্তাঘাট, নিকাশি সবেতেই ফরাসি দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। 

ফরাসি উপনিবেশ হওয়ায় স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বিপ্লবীরা এখানে আশ্রয় নিতেন। আলিপুর বোমার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে অরবিন্দ ঘোষ ও অন্যান্য বিপ্লবী এখানে আশ্রয় নেন।

  চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের কর্মীরা, বিপ্লবী গনেশ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, শহিদ জীবন ঘোষালরাও এখানে আত্মগোপন করে ছিলেন একসময়। 

চন্দননগর ফরাসি উপনিবেশ, তাই ব্রিটিশ পুলিশকে ও অনুমতি নিয়ে এখানে ঢুকতে হতো। সেই সুযোগে বিপ্লবীরা এখান থেকে পালাতেন।                                   

                         ৵       ক্রমশঃ       

--------------------------------------------------------------------

                      ৵   卐 খন্ড ৮   卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের চন্দননগরের ইতিহাস, পর্ব - ৫০, খন্ড - ৮ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

চন্দননগর ফরাসি উপনিবেশ, তাই ব্রিটিশ পুলিশকে ও অনুমতি নিয়ে এখানে ঢুকতে হতো। সেই সুযোগে বিপ্লবীরা এখান থেকে পালাতেন।


শহিদ কানাইলাল দত্তের শৈশব কেটেছে এই শহরে। তার ভিটে, নামাঙ্কিত একটি বিদ্যালয় ও ক্রীড়াঙ্গন এই শহরে রয়েছে। 

বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পৈতৃক ভিটে এই শহরে ফটোকগোড়া এলাকায়। 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধিকবার এই শহরে এসে থেকেছেন। তার স্মৃতিবিজড়িত পাতালবাড়ি স্ট্রান্ডের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত। 

তাঁতবস্ত্রের কেন্দ্র হিসেবেও চন্দননগরের নামডাক ছিল। চন্দননগরের আরেক নাম ফরাসডাঙা। এখানকার কাপড়ের খ্যাতি অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ও বৈপ্লবিক সংগ্রামের ইতিহাসে হুগলির চন্দননগর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। 

ফরাসি উপনিবেশ থাকার কারণে বহু বিপ্লবী এখানে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকেছেন। বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত ও উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম চন্দননগর শহরে। 

রাসবিহারী বসু ঋষি অরবিন্দ ঘোষ, গণেশ ঘোষ, শ্রীশচন্দ্র ঘোষ, মতিলাল রায়, জ্যোতিষ চন্দ্র ঘোষ, মণীন্দ্রনাথ নায়েক বারীন্দ্রকুমার ঘোষের স্মৃতিধন্য চন্দননগর ছিল অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের আখড়া। 

১৯১১ সালে মতিলাল রায়ের প্রবর্তক সংঘর ভেতর প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল রাসবিহারী বসুর বোমা।

যা পরে নিক্ষেপ করা হয় বড়লাট হার্ডিঞ্জ এর ওপর। ঋষি অরবিন্দ এখানে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর পন্ডিচেরি চলে যান।


(সংগৃহীত এবং পরিমার্জিত।)


নমস্কারান্তে ।।।।

কেল্টো মহাশয়। 

তাং - ..............



                                                         পরিসমাপ্ত। 

🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏


Comments

Popular posts from this blog

৵ সুন্দরবনের বিভিষীকা 'কু', পুনঃ প্রচারিত পর্ব ।

জন্মদিন

৵৵৵ History of Kolkata Fire Brigade , Episode - 67, Serial - 1/1.