জন্মদিন



            


"আমি অনেক ভেবে দেখলাম জীবনটা বড় একঘেয়ে হয়ে গেছে । কিছু একটা করা দরকার । অবিলম্বেই । কিন্তু কী করি ?

"চুলে কলপ কর।"

ঝাঁঝালো কণ্ঠে নির্দেশ ভেসে এল রান্নাঘর থেকে । 

আমার বৌ । নিজেকে এখনও দারুণ আয়নায় দেখে আর ভাবে আমার সাদা চুলের জন্যেই তার রূপ,সৌন্দর্য, স্ট্যাটাস সব কিছু মাটি হয়ে যাচ্ছে । লোকে হিসেব মিলিয়ে বুঝে নিচ্ছে তার বয়স কত হতে পারে । 

তাই - ‘চুলে কলপ কর বলছি, নইলে কিন্তু….।’

রীতিমত হুমকি । নইলে আর কিছুই না । আজ সন্ধ্যায় নেমন্তন্ন বাড়ি আমাকে নিয়ে যাবে না । ভাল মন্দ খাওয়ার সোনালি সুযোগ থেকে আমাকে বঞ্চিত করবে । কত দিন ভাল খাইনি ।  গোটা বিয়ের সিজন গেল একটা নেমন্তন্ন পেলাম না । শেষমেষ যখন নেমন্তন্ন পেলাম, শর্ত কলপ ।

কিন্তু কলপে আমার মাথা চুলকোয় । এমন চুলকোয় যে ফুলে ফুলে ওঠে । তখন সেই ব্যামোতেই কাহিল । ভোজ আর খাবো কি ! কি মহা সংকট বল দেখি ।

রিটায়ার করার পর কষ্টটা বেড়েছে । 

আগে অফিসে যেতে আসতে রাস্তায় সস্তার ভাগাড় হোক আর যাই হোক খেয়ে দেয়ে স্যাটিসফেকশান ছিল লাইফে । অন্তত পেটে কষ্ট ছিল না । 

এখন ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শে প্রাণ ওষ্ঠাগত । 

একমাত্র নেমন্তন্ন পেলেই….। সেখানেও এখন বাধ সাধছে কলপ।কী করা যায়, কী করা যায়।

ভাবতে ভাবতে বেলা যায় বুদ্ধি আর আসে না   মাথায় । শেষে নিজেই ফুল দেমাগ দেখিয়ে বলি, "আমি যাব না বিয়ে বাড়ি।"

মুখে ফেস প্যাক ঘষা থামিয়ে বৌ খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল আমার দিকে । তারপর আবার আয়নার দিকে  ফিরে বলল, "বাঁচা গেল।"

শুনে কি বলব, কান্না পেয়ে গেল । সারা জীবন সতী-পতির ব্রত পালন করার পর এই তার প্রতিদান ! দেখছি আমিও । আজ যাক না একবার বেরিয়ে । 

বেরোলে আর রাত বারোটার আগে ফিরবে না । পুরনো বন্ধুরা সব আসবে । প্রত্যেকে এক একটা বিশ্বনেকী বুড়িছুঁড়ি । দেখতে বুড়ি, স্বভাবে ছুঁড়ি । 

আমিও যাব বেরিয়ে দরজায় তালা মেরে । তারপর ফুল মস্তি করে কাটাব সন্ধ্যেটা । 

ও হরি, এই ছিল মনে ! 

সন্ধ্যায় বেরোতে গিয়ে দেখি সদর দরজায় তালা মেরে দিয়ে গেছে বাইরে থেকে । 

মাথাটা কি বলব, বয়লারের মতো হয়ে গেল । মনে হল, নিজে ফেটে সব ফাটিয়ে দিই এই মুহূর্তে । 

ফোন করে মেজাজ দেখিয়ে বললাম,

 "এটা কী হল ?"

মিষ্টি করে বলল, "দিন কাল যা পড়েছে, আমার চিন্তা হয় তোমাকে একা রেখে যেতে । তাই সিকিউরিটি।"

কি রকম দুষ্টু  বুদ্ধি বুড়িটার ! আমাকে টাইটের ওপর টাইট দিচ্ছে ? আচ্ছা দেখাচ্ছি মজা আমিও ।

ছাদে গিয়ে বাঁশের মইটা নামিয়ে আনলাম দোতলার বারান্দায় । তারপর বারান্দার রেলিং টপকে নামিয়ে দিলাম বাগানে । সেই মই বেয়ে নেমে এলাম নীচে । 

ভাগ্যিস কেউ দেখেনি । দেখলে কী বলতাম ?

ওফঃ ! কী পরিশ্রম । মনে হল শালা সামিট করে নেমে এলাম বেস ক্যাম্পে । এক তলার সিঁড়িতে থেবড়ে বসে হাঁপালাম অনেকক্ষণ । 

তারপর গেট খুলে বেরিয়ে দেখলাম একটা রিক্সা যাচ্ছে ।

"ভাড়া যাবি ?"

"কোথায় যাবেন ?"

মাথাটা গরমই ছিল তখনও । 

ছোকরাকে বললাম, "সেটা কি তুই ঠিক করবি ?" 

চড়ে বসে বললাম, "চল ।"

"কোথায় বলবেন তো !"

"আরে সামনে চ না, এগো ।"

আসলে তো জানি না কোথায় যাব । ভাবলাম, যেতে যেতেই ঠিক করব । বাস স্ট্যান্ডে এসে পড়ল রিক্সা । 

বললাম, "এখানেই নামব । নে থাম ।"

নেমে ভাড়া দিতে গিয়ে দেখি পকেটে পয়সা নেই । পার্সটাই আনিনি সঙ্গে । পাছায় এক হাত দিয়ে হকচকিয়ে চেয়ে রইলাম রিক্সাওলা ছোঁড়াটার দিকে । 

সে-ও পালটা চেয়ে আছে আমার দিকে । 

বেশ অনেকক্ষণ চলল এই মাপামাপি । তারপর সে হঠাৎ বলল, "কষ্ট হচ্ছে ?"

"কষ্ট ! কীসের কষ্ট ?"

"মাল বার করতে কষ্ট হচ্ছে ?"

কি ত্যাদোড় ছোঁড়া ! 

গালাগাল দিতে গিয়েও দিতে পারলাম না । উলটে নরম করে বললাম, "সঙ্গে তো পয়সা নেই রে !"

"পয়সা নেই মানে ?"

"মানে আনতে ভুলে গেছি । এখন কী হবে ?"

ছোঁড়া হাঁ হয়ে গেছে আমার কথা শুনে । কথা বলতে পারছে না । আবার আমিই বললাম, "অন্য কোনও ভাবে শোধ করা যায় না ?"

ছোঁড়া কেমন যেন মুখ করে বলল, "হ্যাঁ যায় ।"

"যায় ? কী ভাবে ?"

"আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসুন ।"

"মানে ?"

"মানে আমি বসছি, আপনি রিক্সা চালান । 

আপনার বাড়ি টু আমার বাড়ি । হাফ হাফ ড্রাইভিং । শোধবোধ ।"

"শালা হারামি তোর আমি....।"

ছোঁড়াটা চেঁচিয়ে বলল, "তাহলে ভাড়া দিন !"

এত জোরে হারামিটা চেঁচাল যে রাস্তার লোক ঘুরে ঘুরে দেখছে ।

 এখানে থাকা আর নিরাপদ নয় ভেবে আবার চড়ে বসলাম রিক্সায় ।

 বসে বললাম, "চল ফিরে ওখানেই । তোকে দ্বিগুণ ভাড়া দেব ।"

"দ্বিগুণ তো এমনিই হয় । চার গুণ লাগবে ।"

"চার গুণই দেব চল।"

আবার ফিরে এলাম বাড়ির সামনে । 

গেট খুলছি, তখনই লোডশেডিং । মইটা তখনও ঠেকানো দোতলার বারান্দায় । আবার ওঠা আবার নামা । মোবাইলের টর্চ জ্বেলে উঠতে লাগলাম মই বেয়ে । 

মইয়ের মাথায় পৌঁছেছি সবে ওমনি পিছনে চিৎকার, "চোর ! চোর !! চোর !!!"

সঙ্গে সঙ্গে তীব্র টর্চের আলো এসে পড়ল মুখের ওপর । গেট পেরিয়ে তিন চার জন চলে এলো মইয়ের গোড়ায় । 

একজনের হাতে একটা মোটা বাঁশ । মইটা ধরে ঝাঁকাচ্ছে আর বলছে, "নাম ! শালা নাম ! দেখাচ্ছি তোকে আজ চোর পেটানি কাকে বলে ।"

মইয়ের মাথায় ভয়ে আতঙ্কে আমার প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলার জোগাড় । 

থর থর করে কাঁপছি আর বলছি, "ভুল বুঝছেন, আপনারা ভুল বুঝছেন !"

"আগে নাম নীচে,তারপর ঠিক ভুল বোঝাচ্ছি    তোকে ।"

না নামলে শালা মই উলটে ফেলে দেবে মনে হচ্ছে । তাতে মরেও যেতে পারি কংক্রিটে মাথা ঠুকে । তার চেয়ে দু’ ঘা খাওয়াই ভাল । 

এইসব ভেবে নামতে লাগলাম । সমানে বলে যাচ্ছি, "ভুল বুঝছেন, এটা আমারই বাড়ি । আমিই এ বাড়ির মালিক । দলিল আছে । আমার নামেই গ্যাস ও লাইটের কানেকশন ।"

ঠাস করে পাছায় পড়ল বাঁশের এক বাড়ি । কঁকিয়ে উঠে চিৎকার করে বললাম, "রাজেন বাবু !"

"ওরে শালা, আবার স্যাঙ্গাৎও আছে সঙ্গে !"

সেকথায় কান না দিয়ে আবার বললাম, "রাজেন বাবু, বাঁচান ।"

প্রতিবেশী রাজেন বাবুকে দেখলাম গেট দিয়ে ঢুকছেন । হন্তদন্ত হয়ে কাছে এসে তিনি পেটাইওলাদের থামালেন । 

বারান্দার সিঁড়িতে আবার থেবড়ে বসলাম মাথায় হাত দিয়ে । রাজেন বাবু বলছেন, "আরে কী হল, এসব কী করছিলেন ?"

ঝাঁঝিয়ে উঠে বললাম, "এই শালা হারামজাদাটার জন্য । বলতে পারলি না তুই ?"

রিক্সাওলা ছোঁড়াটা বললো, "আমি পেচ্ছাপ করতে সাইডে গেছিলাম । তখনই ওরা অ্যাকশান নিয়ে নিয়েছে ।"

"এখন কি মজা দেখছিস ! যা হাগাটাও সেরে আয়, হারামজাদা কোথাকার ।"

"খিস্তি দেবেন না দাদু । ভাড়াটা দিন, আমি চলে যাচ্ছি ।

"শালা তোকে ভাড়া দেওয়ার চক্করেই তো আমার এই হাল হল । তার চেয়ে তোকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এলেই ভাল হত ।"

রাজেন বাবু গলা চড়িয়ে বলেন,

"আরে থামুন থামুন । কি যে সব বলে যাচ্ছেন বুঝতে পারছি না । খুলে বলুন তো কেসটা কী ?"

"আরে বৌ আমাকে….।"

বলতে গিয়েও থেমে গেলাম । 

কী করে বলি ! সামলে নিয়ে বললাম, "বৌ  আমাকে বিয়ে বাড়িতে বলল, তোমার শরীর ভাল না, তুমি বাড়ি চলে যাও, আমি পরে আসছি । 

রিক্সা করে বাড়ি পৌঁছে দেখি চাবিটা বৌয়ের কাছেই রয়ে গেছে । আবার ফিরে যাব । তাই শর্টকাট মারতে যাচ্ছিলাম । তখনই অন্ধকারে ওরা দেখে ভাবল….।"

"মিথ্যে কথা, ঢপ দিচ্ছে দাদু ।"রিক্সা ছোঁড়াটা । 

উঠে দাঁড়িয়ে ওর মুখটা চেপে ধরে বললাম, "তুই থাম না । তোকে তো বলেছি চার গুণ ভাড়া দেব ।"

"কই দিন ।"

"আরে দাঁড়া, আগে ওপরে যাই ।"

রাজেন বাবু বললেন,"না না, আর ওপরে যেতে হবে না । ভাড়া আমি দিয়ে দিচ্ছি ।"

ততক্ষণে আসল গল্প আন্দাজ করে বাকিরা সরে পড়েছে । সেই ফাঁকে রাজেন বাবুকে বললাম, "ভাড়া দিতে হবে না । 

আপনি আমাকে কিছু টাকা ধার দিন । ডাক্তার দেখিয়ে আসি ।"

রাজেন বাবুর কাছে দু’ হাজার টাকা ধার নিয়ে আবার চড়ে বসলাম রিক্সায় । ছোঁড়াটাকে বললাম, "চল শালা ত্যাদড় ছোঁড়া । পেচ্ছাপ করার আর সময় পেলি না । রাজেন বাবু এসে না পড়লে আজ আমার কি হত বলতো !"

"আপনিই বা ঢপ দিচ্ছেন কেন ? বললেন যে বিয়ে বাড়ি থেকে আসছেন । বৌ বলল শরীর খারাপ । চাবি তার কাছে....।"

আমি আর কোনও উত্তর দিই না ।

 সারাটা জীবন দিলাম বৌ, বাচ্চা, ঘর সংসারের পিছনে ।

দুই ছেলে বিদেশে চাকরি জুটিয়ে পগার পার । 

ভাল মন্দ ধরা ছোঁয়ার বাইরে । 

অসুখে অসহায় হয়ে পড়লে নিজেকে নিঃসন্তান মনে হয় কখনও বা । 

বৌটার কথা তো....।

"নিন এবার নামুন । আর ভাড়াটা দিন ।"

মন থেকে মুখ তুলে দেখি আবার বাস স্ট্যান্ডে ফিরে এসেছি । তবু আর নামতে ইচ্ছে করে না । বসেই থাকি ওর রিক্সায় । 

খানিক অপেক্ষা করে সে বলে, "আমি কিন্তু আর কোথাও যাব না । আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে ।"

ব্যাটা ভয় পেয়ে গেছে আমাকে । ভাবছে এবার হয়ত বাঁশের মারার ভাগ ওর পাছাতেও পড়বে ।

হেসে বললাম, "আরে না না, আর কোথাও যেতে বলব না । যাবার আগে একটু চা খেয়ে যা আমার সঙ্গে ।"

আমার স্বরে বোধহয় কোথাও ব্যথা ছিল । হয়ত ছোঁড়াটা ধরতে পেরেছে। 

খানিকক্ষণ আমার দিকে চেয়ে থেকে বলল, "বসুন, চা নিয়ে আসছি ।"

রিক্সাটা একটু সাইড করে লাগাল । নিম গাছের তলায় শনি মন্দির । পাশে দুটো বন্ধ দোকান । তারই সামনেটায় । 

বিস্কুটও এনেছে ব্যাটা । আবার সুগার ফ্রি । নিজে কিন্তু মিষ্টি বিস্কুট খাচ্ছে । বললাম, "বা রে ছেলে ! আলাদা ব্যবস্থা কেন ?"

বলল, "নিশ্চই সুগার আছে আপনার । তাই চা-টাও চিনি ছাড়া । তার ওপর এত ধকল গেল ।"

হাউ মাউ করে ব্যস্ত হয়ে বলতে গেলাম- "ওরে ব্যাটা, না রে । ওসব সুগার ফুগার….।"

কিন্তু বলতে পারলাম না । গলাটা মাঝ পথেই ধরে গিয়ে কথা কেমন আটকে গেল । কেশে উঠলাম হেঁচকি তুলে । 

"আরে আস্তে দাদু, আস্তে ।"

বলতে বলতে তার হ্যান্ডেলে ঝোলানো ব্যাগ থেকে জলের বোতল বার করে এগিয়ে দিল । 

চা-বিস্কুট শেষ করে একটা সিগারেট ধরালাম । ওটা ভুলিনি । ছোঁড়াটাকেও দিলাম একটা, নিল না । বললাম, "খাস না ?"                                      

"খাই ।"

"তাহলে ?'

হেসে বলল, "একটু খড়ুস আছেন । 

কিন্তু বয়সে তো বড় আছেন । আপনার সামনে খাব না ।"

সিগারেটটা ওর হাতে দিয়ে বললাম, "যা ওদিকে গিয়ে খেয়ে আয় ।"

সিগারেটটা হাতে নিয়ে বলল, "কিং সাইজ !" তারপর ওদিকে সরে যেতে যেতে বলল, "দেখবেন, আমার রিক্সা নিয়ে ভেগে পড়বেন না যেন ।"

ছেলে রসিক আছে । ফিরে এলে বললাম, "তোর কোথায় দেরি হয়ে যাচ্ছে বলছিলি ?"

"হ্যাঁ একটু কাজ আছে বাড়িতে ।"

"কী কাজ ?

"ও আছে ।"

"কী আছে বল না ।"

হঠাৎ কেমন লজ্জা পেয়ে বলল, "ও পার্সোনাল ব্যাপার !"

"আরে বল-ই না । আমি কি ভাগ বসাবো ?"

লজ্জায় সব দাঁত বার করে বলল, "মিঠু বলেছে আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে । মিঠু মানে আমার বৌ ।"

"তাড়াতাড়ি ফিরতে ! কেন ?"

বাকি লজ্জার রেশ সবটুকু ঢেলে রিক্সা কবি বলল, "আজ আমাদের বিয়ের দিন মানে সালগিরা ।"

কথাটা শুনে আমি কেমন যেন বিহ্বল হয়ে পড়লাম ! 

কোনও কারণ নেই তবু এক অপার্থিব আনন্দে প্রাণটা যেন ভরাট হয়ে জুড়িয়ে গেল । এমন কত ছোট ছোট সুখে আর আনন্দে দেশটা ভরে আছে আজও । 

সেই ভর সন্ধ্যায় ব্যস্ত বাস স্ট্যান্ডের ভিড়ের দিকে তাকিয়ে আমার এই কথাই মনে হল । 

কতক্ষণ চেয়ে রইলাম মেহনতি যুবা পুরুষটার দিকে । শেষে বললাম, "লোকজনকে নেমন্তন্ন করেছিস ?"

ম্লান হেসে বলল, "নাঃ, অত পয়সা কোথায় !"

আমি হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে বলে বসলাম, "আমাকে নেমন্তন্ন করবি ? কর না রে । 

আমি তোদের খুব আশীর্বাদ করব । প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করব । আর....আর...পয়সা ?"

রাজেন বাবুর কাছে ধার নেওয়া দু'হাজার টাকা ওর হাতে গুঁজে দিয়ে বললাম, "এতে হবে না ? 

আমি আর কত খাবো ! তোরা দু’জন খাবি । তিন জনের হয়ে যাবে ।"

"বাচ্চা আছে ।"

"তাই ? কত বড় ?"

"আড়াই ।"

"মাস না বছর ?"

"বছর ।"

"ঠিক আছে, হয়ে যাবে ।

"কিন্তু ….।"

"কোনও কিন্তু না । আজ তোর বিবাহ বার্ষিকীতে আমার নেমন্তন্ন । 

চল খাবার দাবার কিনে নে হোটেল থেকে । মিঠু যা ভালবাসে, তুই যা ভালবাসিস । আমি তো সবই ভালবাসি ।"

বিরিয়ানি, মাংস, দই, মিষ্টি ও আইসক্রিম ভরপুর কিনেও টাকা বেঁচে গেল । 

বাকি টাকা আমি আর ফেরত নিতে চাইলাম না । ও বেটাও নিতে চাইল না । 

তখন মিঠুর জন্য একটা শাড়ি নিলাম, ওর জন্য পাজামা-পাঞ্জাবি । এমন কি বাচ্চার জামাও । 

প্যাকেট গুলো জড়িয়ে ধরে আমি আবার রিক্সায় চড়ে বসলাম । 

ও মহানন্দে টানতে লাগল রিক্সা । আমি বললাম, "হ্যাঁ রে, তোর ভারি ভারি লাগছে না ?"

"ভারি লাগবে কেন ? এসবের আর কত ওজন ।"

"আমার তো মনে হচ্ছে জগতের সব আনন্দ জড়িয়ে ধরে আমি তোর রিক্সায় চড়ে বসেছি রে ।"

ছেলেটা বোঝে আমার কথা । চুপ করে থাকে । হয়ত নীরবে হাসে । 

আমি দেখতে পাই না । তবু অনুভব করতে পারি তার পিঠের ছন্দ দেখে । 

আবার বলি, "সত্যি রে । দু’হাজার টাকায় এত কিছু হয় আমার জানা ছিল না ।"


ধন্যবাদান্তে

কিরণ্ময় দেবনাথ।



লেখকের পরিচিত

KIRONMOY DEBNATH 

(Retired Ex Mechanical Engineer)

B/2 Ramgarh 

PO - Naktala 

Kolkata- 700047

West Bengal 

India 

Mobile no  - 9836267152

E Mail Address-

Kironmoy.Debnath@gmail.com 






Comments

Popular posts from this blog

৵ সুন্দরবনের বিভিষীকা 'কু', পুনঃ প্রচারিত পর্ব ।

৵৵৵ History of Kolkata Fire Brigade , Episode - 67, Serial - 1/1.