৵৵৵ অশরিরী অতৃপ্ত আত্মা, পর্ব ১০R1৵, খন্ড - ৪/৪। পুনঃ প্রচারিত খন্ড।



সকাল থেকে বজ্র বিদুৎ সহ আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা তার সংগে মাঝে মাঝে তুমুল বৃষ্টির অঝোর ধারা একটানা হয়েই চলেছে।

শ্রীযুক্ত কালীচরন মুখোপাধ্যায় মহাশয় তার এক শিষ্য রতনের সাথে ঘরের বাইরের বজ্র বিদুৎ এবং অঝোর বৃষ্টির মাঝে সান্ধ্যকালীন চায়ের আসরে গল্প গুজবে মেতে উঠলেন।

চায়ের আসরের শ্রীযুক্ত কালীচরন মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের স্মৃতিচারণ থেকে ভেসে ওঠা বিষয় তার প্রিয় পাঠকসমাজের কাছে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে বিষয়:- অশরিরী অতৃপ্ত আত্মা।, পর্ব - ১০R1, ধারাবাহিক  ভাবে পাঠকসমাজের সামনে উপস্থাপন করিলেন।

বিষয়:- অশরিরী অতৃপ্ত আত্মা।, পর্ব - ১০R1, খন্ড - ১

আজ আমার জানা একটি ঘটনা আমার পাঠক সমাজের সামনে উপস্থাপন করতে চাই যেই ঘটনার আমার কাছে সত্যি বলতে কি কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

 প্রয়োজনে কোনও এক সময় আমাকে জামশেদপুর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে টাটা কোম্পানির একটি অংশ গামারিয়া টায়ো গেট অঞ্চলে অবস্থিত টাটা গ্রোথ সপে কাজের প্রয়োজনে আমার পোস্টিং হয়।

টাটা গ্রোথ সপ টাটা স্টীল কোম্পানির (TISCO) অধীনস্থ একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রাঞ বা শাখা ।

টাটা গ্রোথ একটি সয়ং সম্পুর্ন মর্ডান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়র্কসপ। এই ডিভিশন টার প্রধান উদ্দেশ্য টাটা স্টীল প্ল্যান্টের সমস্ত প্রোডাকশন মেশিনারীর মেইন্টেন্স অপারেশন সম্পূর্ণ ভাবে সাপোর্ট করা। 

                 ৵     ক্রমশঃ       

--------------------------------------------------------

              ৵৵ 卐 খন্ড ২ 卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের অশরিরী অতৃপ্ত আত্মা।, পর্ব - ১০R1 পরবর্তী খন্ড ২ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

টাটা গ্রোথ একটি সয়ং সম্পুর্ন মর্ডান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়র্কসপ। এই ডিভিশন টার প্রধান উদ্দেশ্য টাটা স্টীল প্ল্যান্টের সমস্ত প্রোডাকশন মেশিনারীর মেইন্টেন্স অপারেশন সম্পূর্ণ ভাবে সাপোর্ট করা। 


এই ইউনিটের বিশেষ গুনমান্যতার কারনে টাটা স্টীল ছাড়াও ভারতবর্ষের বিভিন্ন কোম্পানির মেশিনারী তৈয়ারী ও সাপ্লাই দায়িত্ব তাদের কাজের অঙ্গ ছিল।

প্রধান রাস্তার একদিকে এই কোম্পানিটি অবস্থিত এবং রাস্তার অপরদিকে ঐ কোম্পানিতে কর্মরত সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারদের ও কোম্পানির অন্যান্য কর্মীদের থাকার জন্য কয়েকশো একর জমির জমির উপর একটি টাউনশীপ ছিল। 

ঐ টাউনশীপে কর্মীদের জন্য  হাসপাতাল, প্রাথমিক স্কুল, ক্লাব, পার্ক সহ  প্রায় দুইশতের ও অধিক অফিসার কোয়ার্টার ছিল। 

কোম্পানির রুটিং কাজের অধিক বাইরের কোম্পানির কাজের প্রয়োজনে ৬ টি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ইনস্পেকশান কোম্পানিকে কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল। 

আমাদের কোয়ার্টার টি ছিল টাউনশীপের পিছনের দিকে।

১৫০ জন বহিরাগত ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৬টি ৫তল বিশিষ্ট ব্যাচেলর কোয়ার্টার আমাদের মত বহিরাগত ইঞ্জিনিয়ারদের থাকার জন্য এলট করা হয়েছিল। 

২ থেকে ৩ মাস সবকিছুই ঠিক ছিল। 

সকাল ৫ টায় উঠে দলবেঁধে প্রাতভ্রমন, সকাল ৬ টায় কোয়ার্টার এ ফিরে মিউজিকাল চেয়ার দখল করার মত আমাদের দলের ২৫ জন সদস্য স্নান ও প্রাতকালীন বাথরুমের কাজের জন্য ১০ টি ওয়াসরুম দখল করার প্রাত্যহিক চেষ্টা, সকাল ৭ টার মধ্যে ডাইনিং হলে হাজিরা দেওয়া, সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে প্রাতরাস সম্পূর্ণ করে কর্মস্থলে হাজির হওয়া।

প্রতিদিন রাত্রি সাড়ে আট থেকে নয়টায় কোয়ার্টার এ ফিরে এসে রাত্রি সাড়ে দশটায় রাতের আহার শেষ করে সজ্জা গ্রহণ করা এই ছিল সোমবার থেকে শনিবার অবধি  আমাদের কাজের ফিরিস্তি।

৮ মাস পরে ঘটনাটি ঘটেছিল আমাদের কোয়ার্টার এর লাগোয়া একটি কোয়ার্টার এর ৩য় তলে।

পাশের কোয়ার্টার এর বাসিন্দারা ও আমাদের মতই একটি ইন্সপেক্সান এজেন্সীর বহিরাগত দক্ষিণ ভারত থেকে আগত ইঞ্জিনিয়ার। 

                 ৵৵      ক্রমশঃ       

--------------------------------------------------------

            ৵৵    卐 খন্ড ৩ 卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের অশরিরী অতৃপ্ত আত্মা।, পর্ব - ১০R1 পরবর্তী খন্ড ৩ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

পাশের কোয়ার্টার এর বাসিন্দারা ও আমাদের মতই অপর একটি ইন্সপেক্সান এজেন্সীর বহিরাগত ইঞ্জিনিয়ার।



ঐ পার্শ্ববর্তী  কোয়ার্টারের সকল ইন্জিনীয়ারদের সাথে আমাদের ধীরে ধীরে পরিচয় এবং একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। 

অফিসের ক্যান্টিনে বিকালের চা খাওয়ার সময় আমাদের লাগোয়া ফ্ল্যাটের ইঞ্জিনিয়াররা নিজেদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনায় ব্যাস্ত দেখলাম। 

কৌতুহল বসত তাদের আলোচনার ব্যাপারে তাদের কাছে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে জানতে পারলাম বিগত ৪ মাস থেকে ঐ কোয়ার্টার এর ৩য় তলে প্রতি অমাবষ্যার গভীর রাত দুটো নাগাদ একটি বেডরুমের দরজা হঠাৎ ই খুব বিচ্ছিরি  আওয়াজ করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঐ সময়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেও কিছু সময়ের জন্য তারা ব্যর্থ হয়। 

কিন্তু অন্য সময়ে বা মাসের অন্য দিনগুলিতে ঐ দরজাটি বন্ধ বা খোলার সময় কোনও প্রকার আওয়াজ বা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় না।

ঐ রুমের রুমমেট এর ঘুমের চোখের বক্তব্যকে তার অন্যান  কলিগরা খুব একটা বিশেষ ভাবে পাত্তা বা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না।

এইভাবেই আরও ৪ মাস সময় অতিবাহিত হওয়ার পরের ঘটনা। 

পঞ্চম মাসের ঐ একই অমাবষ্যার রাতের বেলা আনুমানিক ২টোর সময়ে ঐ রুমে দুরের আবছা আলোতে চুল ছাড়া ও সাদা শাড়ি পড়া অবস্থায় এক মহিলাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেল 

এই ঘটনায় তারা খুবই ভয় পেয়ে গেল এবং সবাই মিলে নিজেরা আলোচনা করে পরবর্তি মাসের ঐ অমাবষ্যার রাতে তারা অন্য ফ্ল্যাটে শোয়ার বন্দোবস্ত করলো, কিন্তু ঐ রাতের মতো একই ঘটনাটি ও প্রতি মাসের অমাবষ্যার রাতেই প্রায়ই ঘটতে লাগলো। 

এবার তার সহ কর্মিরা একটু আতঙ্কিত হতে আরম্ভ করে দিলো।

আরও  ৬ মাস পরে এক ঘুটঘুটে অমাবষ্যার রাতে হঠাৎ লোডশেডিং হয়ে পুরো টাউনশীপ অন্ধকারে ডুবে যায়।

রাত প্রায় দশটা নাগাদ পাশের কোয়ার্টার এর ইঞ্জিনিয়াররা ডিনার শেষ করে সবাই দল বেঁধে ৩য় তলায় গল্প গুজবে ব্যস্ত ছিল।

                 ৵৵   ক্রমশঃ       

--------------------------------------------------------

      ৵৵    卐 খন্ড ৪ , অন্তিম খন্ড 卐   

শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের অশরিরী অতৃপ্ত আত্মা।, পর্ব - ১০R1 পরবর্তী খন্ড ৪ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।


পূবার্নুবৃত্তি:

রাত প্রায় দশটা নাগাদ পাশের কোয়ার্টার এর ইঞ্জিনিয়াররা ডিনার শেষ করে সবাই দল বেঁধে ৩য় তলায় গল্প গুজবে ব্যস্ত ছিল।


এই  সময়ে হঠাৎ ই দমকা হাওয়ার পর অন্ধকারে জানলার দিকে নজর পড়তেই  সবার মনে হলো একজন ৩০/৩৫ বছরের মহিলা রাগত অবস্থায় সবার দিকে তাকিয়ে আছে। ঐ ঘটনার পর সবাই ভয়ে ভিরমি খাবার জোগাড়, কিছু সময়ের জন্য  সবার ভয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। 

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই কারেন্ট চলে আসার পর চারিদিকে আলোর বন্যায় সেই ভদ্রমহিলার শরীর কোথায় হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। তারা দল বেঁধে তন্ন তন্ন করে খুজে ও কিছুই দেখতে পেল না।

এই ঘটনার পরে ঐ কোয়ার্টারের সকল ইঞ্জিনিয়াররা ধীরে ধীরে একের পর এক হঠাৎ অসুস্থ হতে আরম্ভ করলো।

এই ঘটানার পরে তারা এতটাই ভয়ভীত হয়ে গিয়েছিল যে ঐ কোয়ার্টার এর সকল ইঞ্জিনিয়াররা সবাই একসাথে ছুটির জন্য মাদ্রাজের ব্রাঞ্চ অফিসে এপ্লিকেশন পাঠিয়ে দিল ।

এই ঘটনার পরেই মাদ্রাজের ব্রাঞ্চ অফিসের ম্যানেজমেন্ট এবং টাটা গ্রোথ সপের  ম্যানেজমেন্ট নড়েচড়ে বসলেন।

পরবর্তীকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের এবং টাটা গ্রোথ সপের স্থানীয় অফিস স্টাফদের মারফত জানা গেল কোনও বড় শহরের মতো ঐ টাউনশীপে বাসিন্দাদের পরিবারের মহিলাদের জন্য কোনও প্রকার আমোদ প্রমোদের ব্যাবস্থা না থাকার কারনে এবং পরিবারের পুরুষেরা কোম্পানির কাজ ও ক্লাব নিয়ে আমোদ প্রমোদে ব্যাস্ত থাকার কারনে পরিবারের মহিলাদের প্রতি এই অবিচার ব্যবস্থার স্বীকার দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছিল।

ঐ কোয়ার্টার এর ৩য় তলের ঐ ফ্ল্যাটে একটি কেরালিয়ান পরিবার থাকতেন। 

ঐ পরিবারের একজন ৩০ বছরের সন্তানহীনা ভদ্রমহিল প্রায় ১৫ বছর আগে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। 

তারপর থেকেই ঐ কোয়ার্টার এ কেহই বেশি দিন বসবাস করতে পারেনি।

অগত্যা টাটা ম্যানেজমেন্ট ঐ কোয়ার্টার টিকে অঘোষিত পরিত্যক্ত ঘোষনা করেদিলেন।

ঐ ভদ্রমহিলার অতৃপ্ত আত্মা সেই থেকেই ঐখানে বসবাস করে আসছে।

পরবর্তী কালে আমাদের পাশের কোয়ার্টারের ইঞ্জিনিয়ারদের অন্য ব্লকে আর একটি অন্য কোয়ার্টার এ সিফ্ট করার ব্যবস্থা করা হয়। 

এই ঘটনার পরেই আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা ও একে একে ভয়ভীত হতে আরম্ভ করে দিল।

ঐ ঘটনার ২ বছর পরে আমি ও ওখানকার কাজ শেষ করে কলকাতায় ফিরে আসি।

নমস্কারান্তে ।।।।

কেল্টো মহাশয়। 

তাং - ..............


                পরিসমাপ্ত। 

🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏



Comments

Popular posts from this blog

৵ সুন্দরবনের বিভিষীকা 'কু', পুনঃ প্রচারিত পর্ব ।

জন্মদিন

৵৵৵ History of Kolkata Fire Brigade , Episode - 67, Serial - 1/1.