৵৵৵ মায়াপুর ইস্কোন মন্দিরের ইতিহাস, পর্ব ৫২, খন্ড - ৪/৪।
বিষয় : - মায়াপুরের ইস্কোন মন্দিরের ইতিহাস, পর্ব- ৫২, খন্ড - ১।
শ্রীযুক্ত কালীচরন মুখোপাধ্যায় মহাশয় তার এক বন্ধু সুশান্ত কে তার গল্পের আসরে পেয়ে সকাল থেকেই গল্পে মশগুল হয়ে উঠলেন।
শ্রীযুক্ত সুশান্ত বাবুর ঝোলা থেকে বের হওয়া মায়াপুরের ইস্কোন মন্দিরের ইতিহাস সম্বন্ধীয় স্মৃতিচারণ থেকে কিছু অংশ পাঠকসমাজের সামনে উপস্থাপন করার কথা ভেবে শ্রীযুক্ত কালীচরন মহাশয়ের এই লেখনী।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসায়নেস (ইসকন) 1966 সালে পশ্চিমে হিজ ডিভাইন গ্রেস এসি ভক্তিবেদান্ত স্বামী (শ্রীলা প্রভুপাদ) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসকন গৌড়ীয় (বাংলাকে বোঝায়) বৈষ্ণবধর্মের অন্তর্গত, ভগবদ্গীতার শিক্ষার উপর ভিত্তি করে একটি ভক্তিমূলক ঐতিহ্য এবং শ্রীমদ-ভাগবত ।
ইসকনের অনুশাসন এবং অনুশীলনগুলি 15 শতকের সাধক ও ধর্মীয় সংস্কারক শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু (1486-1532), তাঁর ভাই নিত্যানন্দ প্রভু এবং তাঁর ছয়জন নীতি সহযোগী, বৃন্দাবনের গোস্বামী (সনাতন, রূপ, জীব, গোপাল ভট্ট, রঘুনাথ দাসা এবং রঘুনাথ ভট্ট।) দ্বারা শেখানো এবং সংহিত করা হয়েছিল।
ভগবদ গীতা প্রথম লেখা হয়েছিল প্রায় 5000 বছর আগে।
গীতা হরে কৃষ্ণ আন্দোলন সংগঠনের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। এর উত্স 5000 বছরেরও বেশি পুরানো।
৵ ক্রমশঃ
------------------------------------------------------------------
৵ 卐 খন্ড ২ 卐
শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের মায়াপুরের ইস্কোন মন্দিরের ইতিহাস, পর্ব- ৫২, খন্ড - ২ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।
পূবার্নুবৃত্তি:
গীতা হরে কৃষ্ণ আন্দোলন সংগঠনের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। এর উত্স 5000 বছরেরও বেশি পুরানো।
শ্রী চৈতন্য, যাঁকে ভক্তরা কৃষ্ণের প্রত্যক্ষ অবতার হিসেবে স্বীকৃতি দেন, ভারত জুড়ে একটি বিশাল ভক্তি (ভক্তিমূলক) আন্দোলনের জন্য একটি শক্তিশালী প্রেরণা দিয়েছিলেন।
তাঁর নির্দেশনায় কৃষ্ণভাবনা দর্শনের উপর শত শত খন্ড সংকলিত হয়। অনেক ভক্ত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর উপদেশমূলক লাইন অনুসরণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে 19 শতকের একজন অসামান্য বৈষ্ণব ধর্মতাত্ত্বিক, ভক্তিবিনোদ ঠাকুর (1838-1914) যিনি আধুনিক দর্শকদের কাছে কৃষ্ণ চেতনা নিয়ে আসেন।
ভক্তিবিনোদের পুত্র, ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী (1874-1937), শ্রীল প্রভুপাদের (1896-1977) গুরু হন এবং তাকে পশ্চিমে কৃষ্ণ চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ইসকনের ইতিহাস একটি শিষ্য উত্তরাধিকার (সম্প্রদায় বা গুরু পরম্পরা) অন্তর্ভুক্ত করে।
আধ্যাত্মিক শিক্ষক এবং শিষ্যদের (পরম্পরা) উত্তরাধিকারসূত্রে এটি তার স্থান থেকে বৈধতা নিয়ে আসে।
চারটি প্রধান শিষ্য উত্তরাধিকার রয়েছে, এবং ইসকন ব্রহ্মা-গৌড়ীয়-মাধব (মাধবাচার্যকে উল্লেখ করে [1239-1319]) সম্প্রদায়ের অন্তর্গত, যা স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
অন্য তিনটিকে বলা হয়
শ্রী (দেবী লক্ষ্মীকে নির্দেশ করে) সম্প্রদায়,
রুদ্র (দেবতা শিবকে নির্দেশ করে) সম্প্রদায় এবং কুমার (চারটি কুমার [ব্রহ্মচারী ঋষিদের] উল্লেখ করে) সম্প্রদায়।
ব্রাহ্ম সম্প্রদায়ের অনেক শাখা রয়েছে। ইসকন 16 শতকে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ব্রহ্মা-গৌড়ীয়-মাধব বংশের অন্তর্গত।
৵ ক্রমশঃ
------------------------------------------------------------------
৵ 卐 খন্ড ৩ 卐
শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের মায়াপুরের ইস্কোন মন্দিরের ইতিহাস, পর্ব- ৫২, খন্ড - ৩ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।
পূবার্নুবৃত্তি:
ব্রাহ্ম সম্প্রদায়ের অনেক শাখা রয়েছে। ইসকন 16 শতকে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ব্রহ্মা-গৌড়ীয়-মাধব বংশের অন্তর্গত।
মায়াপুর (পূর্বে যাহা শ্রীমন্মহাপ্রভুর দ্বারা দণ্ডিত এবং শরণাপন্নিত চাঁন্দকাজীর কবর স্থলীর কারণে মিয়াপুর নামে পরিচিত ছিল) পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জনপদে অবস্থিত একটি ইস্কন দ্বারা নবনির্মিত নগরী যা ইস্কনের প্রমুখ কার্যালয় ও পশ্চিমবঙ্গের একটি নবীন অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র৷
মায়াপুর ভাগীরথী নদীর পূর্বপাশে অবস্থিত। নবীন মায়াপুরের কাছেই জলঙ্গী নদী ভাগীরথী নদীতে মিশেছে।
মায়াপুরের প্রাচীন নাম মিয়াপুর (Miyapur) ছিল। মুসলিম অধ্যুষিত এই স্থানটি বিশেষত চাঁন্দকাজ়ীর মজ়ার(কবর) স্থলী এবং মুসলিম ইসলাম অনুগামী মৎস্যজীবী দের বসতির জন্য পরিচিত ছিল।
মিঞাপুর নামটির উল্লেখ বিভিন্ন আধিকারিক সরকারি মানচিত্র এবং জরিপের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
নদিয়া কালেক্টরির জরিপি নকশায়(১৮৪০ খ্রি.), ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দের রেভিনিউ সার্ভে মানচিত্রে, ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের Village Directory of Nadia ( পোষ্টমাষ্টার জেনারেল কর্তৃক মুদ্রিত )-এ, ১৯২০ ও ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের সার্ভিয়ার জেনারেল রাইডারের মানচিত্রে স্থানটিকে মিয়াপুর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীকালে বিংশ শতাব্দীতে ভক্তিবিনোদ ঠাকুর এবং পরবর্তীতে ইস্কোন দ্বারা এই স্থান কে মায়াপুর নামে প্রচারিত করা হয়।
৵ ক্রমশঃ
---------------------------------------------------------------------
৵ 卐 খন্ড ৪ 卐
শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের মায়াপুরের ইস্কোন মন্দিরের ইতিহাস, পর্ব- ৫২, খন্ড - ৪ এর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।
পূবার্নুবৃত্তি:
পরবর্তীকালে বিংশ শতাব্দীতে ভক্তিবিনোদ ঠাকুর এবং পরবর্তীতে ইস্কোন দ্বারা এই স্থান কে মায়াপুর নামে প্রচারিত করা হয়।
দুই স্থানের নাম একরুপতার পরিনাম স্বরুপ শ্রীমন্মহাপ্রভু চৈতন্যদেব এর মুল জন্মস্থালী শ্রীনবদ্বীপ ধাম অতর্গত প্রাচীন মায়াপুর নামক স্থল এবং নবনির্মিত মায়াপুর(প্রাচীন মিয়াপুর)এর মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
বহু ইস্কোন অনুগামী যেহেতু নবীন মায়াপুর কে শ্রীনবদ্বীপ ধাম অতর্গত প্রাচীন মায়াপুর (মহাপ্রভু) জন্মস্থান একটাই এমন ভ্রম হয় কিন্তু মুল স্থানীয় বাসীন্দারা এবং পরম্পরাগত শ্রীচৈতন্য অনুগামী গণ শ্রীনবদ্বীপ ধাম অতর্গত প্রাচীন মায়াপুর স্থলী কেই শ্রীমন্মহাপ্রভু জন্মস্থান হিসেবে গণ্য করে ।
এখানে ইসকন (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) প্রতিষ্ঠিত এবং নির্মাণাধীন চন্দ্রোদয় মন্দির আছে। এই মন্দিরের অধিকাংশ সেবক পাশ্চাত্যদেশ হয়তে আগত , যারা ইউরোপ ও আমেরিকার নানা দেশ থেকে এসে সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
মায়াপুর কলকাতার সাথে সড়কপথে যুক্ত। নিকটবর্তী রেলস্টেশন গঙ্গার অপর পাড়ে শ্রীনবদ্বীপ ধাম রেলওয়ে স্টেশন।
এছাড়া কলকাতার শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে কৃষ্ণনগর এসে সেখান থেকে বাসে মায়াপুর পৌঁছনো যায়।
মায়াপুরের প্রধান উৎসবগুলি হল চন্দনযাত্রা, স্নানযাত্রা,রথযাত্রা , ঝুলনযাত্রা ,জন্মাষ্টমী , রাধাষ্টমী, রাসযাত্রা, শ্রীল প্রভুপাদের ব্যাসপূজা, দোলযাত্রা প্রভৃতি।
১৩০৬৩/হাওড়া - বালুরঘাট এক্সপ্রেস সকাল ৯:৩৭ এ সোম থেকে শুক্র নবদ্বীপ পৌঁছায়।
(সংগৃহীত এবং পরিমার্জিত।)
নমস্কারান্তে ।।।।
কেল্টো মহাশয়।
তাং - ..............
পরিসমাপ্ত।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
Comments
Post a Comment