৵৵✓ বাস কন্ডাক্টর। পর্ব ২২, খন্ড - ১/১.
বাস কন্ডাক্টর। পর্ব ২২। খন্ড ১
শ্রীযুক্ত কালীচরণ মুখোপাধ্যায়ের তার ই এক প্রিয় বন্ধুর মারফত সংগ্রহ করা এবং শোনা এক বাস কন্ডাক্টরের জীবনীর কিছু অংশ ধারাবাহিক ভাবে তাঁরই অনুমতিক্রমে প্রকাশ করা হল।
একজন বিরল বাস কন্ডাক্টরের গল্প :
গতকাল Science city থেকে যাদবপুর যাবো বলে S - 9 বাসে উঠেছি। পরের stopage এ যাত্রীদের নামবার জন্য উচ্চস্বরে কন্ডাক্টরের আবেদন নজর কাড়লো।
একেবারে professional guide মতো অত্যন্ত বিনয়ী ভাবে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে কোন কোন এলাকার জন্য পরের স্টপেজে নামতে হবে তার বিস্তারিত বিবরণ। আমার মতো সকলেই মন দিয়ে শুনছিল তার বলার ভঙ্গি।
জীবনে তো কতো বাসে চেপেছি, কন্ডাক্টরদের কতো আচার-আচরণ প্রত্যক্ষ করেছি কিন্তু এই তন্ময় মাহাতো তো একেবারেই আলাদা।
প্রতিটা stopage আসার আগের তার গাইড সুলভ বিবরণে মনে হচ্ছিল আমরা কোথাও ভ্রমনে বেরিয়েছি এবং গাইড এক একটা এলাকার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।
কয়েকজন স্কুলের বাচ্চা ছেলেমেয়ে বাসে উঠল (দেখে মনে হল V - VI এর হবে ) স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে, তারা ভাড়া দিতে হাত বাড়াল.... কন্ডাক্টর তাদেরকে বলল - "তোমরা ভালোভাবে পড়াশুনা করো, পড়ায় ফাঁকি দিওনা, আর আজকের বাসভাড়াটি দিয়ে কালকে স্কুলে টিফিন খেয়ে নিও - তোমাদের কারোর আজ ভাড়া দিতে হবে না "... শুনে বাচ্চাগুলোর চোখে মুখের খুশির ঝলক ছিল দেখার মতো।
কৌতুহল বশে কন্ডাক্টরকে জিজ্ঞেস করলাম - কেউ তো পঞ্চাশ পয়সাও ছাড়েনা আর আপনি এতোগুলো ভাড়া ছেড়ে দিলেন? শুনে কন্ডাক্টর Tanmay বললো " অনেকে গরীবের বাচ্চারা খুব কষ্ট করে লেখাপড়া শেখে, ঠিক মতো টিফিন খেতে পায় না। এই একদিনের ভাড়ার টাকাটাই তাদের কাছে অনেক। এদের মধ্যে কেউ কেউ একদিন লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হবে এবং সমাজের আরও দশজনকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে"। - আমি মুগ্ধ হলাম।
যাদবপুর 8B এসে গেল, সকল passenger কে নামতে অনুরোধ করে, যাত্রাকালীন কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য করজোড়ে মার্জনা প্রার্থনা করে নামিয়ে দিল আমাদেরকে।।
আমি সেলফি নিলাম তাকে ডেকে - মনে রাখতে হবে তো......
নমস্কারান্তে ।।।।
কেল্টো মহাশয়।
তাং - ..............
পরিসমাপ্ত।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
Comments
Post a Comment