✓✓✓✓ মায়ের ব্যাঙ্ক, পর্ব - ৩৩, খন্ড - ২/২।
মায়ের ব্যাঙ্ক।
আমার মায়ের কোন ব্যাংক একাউন্ট ছিল না।
মা তোষকের নিচে টাকা রাখতো । ওটাই ব্যাংক। কোন তালা ছিল না। পাহারাদার নেই। তারপরও সবকিছু ঠিকঠাক। কেউ চুরি করতো না। ভাইবোন না। কাজের লোকও না।
বাদামওয়ালা, ঝালমুড়িওয়ালা, আইসক্রিমওয়ালা এলে আমরা ছুটে যেতাম মার কাছে- মা টাকা দাও ।
মা’য়ের মন ভাল থাকলে তোষকটা তুলতো।
মন খারাপ হলে তুলতো না।
তোষক তোলার স্পর্ধা ছিল না আমাদের। মা যেদিন তোষক তুলতেন না - আমরা অনাথের মত চেয়ে থাকতাম তোষকটার দিকে। খুব রাগ হতো। ইচ্ছে হতো তোষকটা জ্বালিয়ে দিতে কিন্তু মার রক্তচক্ষুর কাছে, আমরা অনাথ। শব্দহীন। শক্তিহীন।
তারপর আস্তে আস্তে বড় হলাম। লেখাপড়া শেষ করলাম । রোজগার শুরু হলো। মা তখনও তোষকের নিচে টাকা রাখে ।
✓ ক্রমশঃ
—------------------------------------------------------------
✓ 卐 ২ 卐
মায়ের ব্যাঙ্ক। পর্ব - ৩০, এর ধারাবাহিক পঞ্জীকার , খন্ড- ২।
কালীচরন মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের মায়ের ব্যাঙ্ক। সমন্ধীয় রচনাবলী - পর্ব ৩০ এর, ধারাবাহিক রচনাবলী পরবর্তী অংশ।
পূবার্নুবৃত্তি:
একদিন লন্ডন থেকে বাড়ি ফিরলাম।
মা কে বললাম- বাজারে যাবো। কী কী লাগবে ?
মা লম্বা ফর্দ লিখলে । মা জানে আমার পকেটে অনেক টাকা। তাকে আর তোষক তুলতে হবে না। আমি লম্বা ফর্দ নিয়ে বাজারে যাবো, অমনি মা আমাকে থামালো।
তোষকটা তুললো। ময়লা একটা ১০ টাকার নোট বের করলো। আমি তো অবাক। মা কি আমাকে আইসক্রিমের পয়সা দেবে ? আমি কি সেই ছোট্ট বালক ?
মা হাসলেন - তোর কাছে তো সব ৫০০ টাকার নোট। রিক্সাওয়ালা ভাঙানি দিতে পারবে না। এটা নে ।
আমার কিযে আনন্দ । মা তোষক তুলেছে। টাকা দিয়েছে আমায়।
আমি মাকে বললাম- তুমি এখনো তোষকের নিচে টাকা রাখ ?
মা তার গৌরবময় হৃদয়টা মেলে দিয়ে হাসলো -
বাবা, এইটাই আমার নিরাপদ ব্যাংক। আমার জীবনের বড় সার্থকতা কি জানো ? আমার কোন সন্তান চোর নয়, অবিশ্বাসী নয় ।
মা নেই। তোষক আছে। কিন্তু তোষকের নিচে এখন আর কেউ টাকা রাখে না ।
মা সম্পদ, খ্যাতি, আভিজাত্য কিছুই চাননি। চেয়েছিলেন, তোষকের টাকাটা যাতে ঠিক থাকে। এইটুকু-ই।
পৃথিবীর সকল মা-ই ভাল থেকো ।
ভগবান যেন তোমাদেরকে, আরামের তোষকে শান্তিময় ঘুম দেন। ।
এইপারে, ওইপারেও।
নমস্কারান্তে ।।।।
কেল্টো মহাশয়।
তাং - ..............
পরিসমাপ্ত।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
Comments
Post a Comment