জীবন দর্শন

পরিবারে সন্তানের চরিত্র গঠনে মা বাবার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

একটা কথা আজকাল খুবই শোনা যায় বা দেখা যায় বা বোঝা যায়।

সন্তান ও মা, বাবার সহজ সরল সম্পর্কের মধ্যে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে সন্তান এবং মা, বাবার জেনারেশন গ্যাপ। 

জীবন সমন্ধে মা বাবার ধারণা তৈরি হয় তাদের সারাজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে, পুঁথিগত বিদ্যাটা সেখান গৌন,  যদিও মা, বাবার পুঁথিগত শিক্ষার ওপর নির্ভর করে তাদের জীবন সমন্ধে দৃষ্টি ভঙ্গি। 

কিন্তু বর্তমান সময়ে সন্তানেরা হয়তো তাদের  পুঁথিগত বিদ্যায় মা বাবার পুঁথিগত বিদ্যা থেকে বেশি হওয়াতে (যেটা প্রত্যেক মা, বাবাই চান সন্তানদের পুঁথিগত বিদ্যাতে মা বাবার শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে সন্তানদের অধিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তৈরি করতে এবং উপযুক্ত সুযোগ, সুবিধা করে দিয়ে উচ্চ শিক্ষিত করে বর্তমান সময়ের উপযোগী ভাবে তৈরি করতে , সেটা তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক প্রতিকূল
পরিস্থিতিতে ও) সন্তানরা উচ্চ শিক্ষিত হয় ঠিকই,  কিন্তু প্রকৃত মানুষ হয় কিনা সন্দেহ আছে। 

সন্তানদের ধারণা তৈরি হয় তাদের জীবনধারন সমন্ধে
তারা তাদের মা বাবা থেকে অধিক জানে ও অধিক জ্ঞান রাখে, কিন্তু সেই ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভুল, কেননা,  জীবন সমন্ধে মা, বাবার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় বয়সের বিভিন্ন সুখ, দুঃখের আঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে, যেটা কোনো পুঁথিতে লেখা থাকে না বা কোনো শিক্ষক শেখাতে পারে না। 

আজকাল সন্তানদের মধ্যে মা,বাবা ও পরিবারের সম্মানিয় বয়স্ক সদস্যদের প্রতি প্রকৃত সন্মান বোধের প্রকাশের বড়ই অভাব, তার ফল স্বরূপ মা, বাবার বা পরিবারের সন্মানিয় বয়স্ক সদস্যদের পরামর্শ বা উপদেশ সন্তানদের মধ্যে গ্রহণ যোগ্যতা একশ তে পাঁচ জনের মধ্যে ও দেখা যায় না।

কিন্তু তাদের জীবনে প্রকৃত শিক্ষা হয় বিভিন্ন পরিবেশে ও পরিস্থিতিতে আঘাত পেয়ে।

বড় আঘাত হলে পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রতিকূল অবস্থায় নিজেকে ঢেলে সাজানোর সুযোগ পায় বা
 জীবন থেকে হারিয়ে যায়।

 ছোট আঘাত হলে প্রকৃত শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান  সন্তানরা পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ পায়। 

মা, বাবা ও পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের উচিত তারা তাদের জীবনে যে পরিবেশ,পরিস্থিতি ও আর্থিক অবস্থায় অভাব ও অনটনের মধ্যে বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত অনুযায়ী পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সংগে সমানভাবে ভাগীদার হয়ে মানিয়ে নিয়ে বড় হয়েছিলেন এবং  তাদের জীবন সমন্ধে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন তাদের সন্তানদের ও জীবনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন অবধি সন্তান স্নেহে অন্ধ না হয়ে সন্তানদের ভবিষ্যতের প্রকৃত উন্নতির কথা চিন্তা করে সেই একই ভাবে প্রতিপালন করা। (এক্ষেত্রে মা, বাবা বা পরিবারের অবস্থা আর্থিকভাবে অধিক স্বচ্ছল হলে ও,  কেননা  জীবনের প্রথম দিন থেকেই তাদের ধারণা তৈরি হয় জীবনে সব কিছুই সহজলভ্য এবং জীবনের প্রকৃত বৈষহিক জ্ঞান সম্বন্ধে কোনো জ্ঞানই তারা অর্জন করার সুযোগ পায় না)। 

তাহলেই প্রতিটি পরিবার হইতে প্রতিটি সন্তান ভবিষ্যতে প্রকৃত শিক্ষিত সন্তান ও মানুষ হিসাবে তৈরি হবে ও সমাজ এবং দেশের প্রকৃত নাগরিক তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে।

অন্যথায় ভবিষ্যতে প্রতিটি দেশের নাগরিক ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষিত হতে পারে কিন্তু প্রকৃত নাগরিক হবে কিনা সন্দেহ আছে, আর প্রকৃত শিক্ষিত নাগরিক তৈরি না হলে প্রকৃত সমাজ ও প্রকৃত দেশ গঠনের স্বপ্ন অবাস্তব ও অসম্ভব। 

Comments

Popular posts from this blog

৵ সুন্দরবনের বিভিষীকা 'কু', পুনঃ প্রচারিত পর্ব ।

জন্মদিন

৵৵৵ History of Kolkata Fire Brigade , Episode - 67, Serial - 1/1.