সময়কাল
সময়কাল শব্দটি কেবলমাত্র পাঁচ টি অক্ষর থেকে উৎপত্তি। এই শব্দটি ছোঁয়া যায় না, দেখা যায় না, খাওয়া যায় না, এটা এমন একটা ব্যাপার যেটা এই ব্রমান্ডে যেকোনো নশ্বর ব্যক্তির,প্রানীর,জীবের, বস্তুর, আবহাওয়ার, আলোর, ইত্যাদি ইত্যাদির ক্ষেত্রে একমুহূর্তের জন্য একবারই আসে। তাকে পুনরায় পাওয়ার সুযোগ কখনোই সম্ভব নয়। এই ব্রমান্ডে যে কোনো প্রাণী, জীবজন্তু, বস্তুর লাইফস্পেন প্রকৃতির নিয়মে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা অবধি থাকে। কারো কাছেই সময়সীমা সমন্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা বা জ্ঞান থাকে না, কিন্তু সময়ের কাছে কোনো রেকর্ড সিস্টেম থাকলে তাতে তার সৃষ্টি থেকে ধংসের মুহূর্ত অবধি সব কিছুই রেকর্ড করা বা লেখা হয়ে থাকতো।
উদাহরণ স্বরূপ কিছু ব্যাখা দেওয়া যেতে পারে।
একটি শিশুর কাছে তার জীবনে পরবর্তী দশ বছর পরে কি হবে তার কোনো ধারণা বা জ্ঞান তার থাকে না, কিন্তু সময়ের কাছে সব কিছুরই রেকর্ড করা থাকে, যদি সেটা দেখা যেত, তা হলে অনায়াসে দশ বছর পরে তার জীবনে কি ঘটনা ঘটবে সেটা আগাম জানতে পারত, জীবনটাকে সেইভাবে তৈরি করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত লাভ করার সুযোগ নিতে পারতো। যেমন কোনো যুবক বা যুবতী যদি তাহার শেষ বয়সের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারতো, তা হলে জীবনের প্রতিটি মুহুর্তকে সাজিয়ে নিতে পারতো, কিন্তু তারা কিছুই ঠিক মতো করে উঠতে পারে না,কিন্তু যাহা আমরা আগাম ও সুনির্দিষ্ট ভাবে কোনো ঘটনা বা যাহা কিছু ভবিতব্য সমন্ধে দেখতে, বুঝতে, ধারণা করতে পারি না, তাই তাহাকেই আমরা ভবিতব্য বলে আক্ষ্যা দিয়ে থাকি।
কিন্তু আমরাই যদি আমাদের হাতের বর্তমান সময়কে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারি, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতের অদেখা ঘটনাকে কিছুটা হলে ও আমাদের favour নিতে পারবো এবং সঠিক ভাবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে সুফল আশা করতে পারবো, বর্তমান সময়ে ভাল কাজ করলে ভালো ফল আশা করতে পারবো, খারাপ কাজ করলে খারাপ ফল ভোগ করবো।যদিও জীবনে ভাল ও খারাপ সমন্ধে ধারণা পুরোপুরি আপেক্ষিক। চুরি, ছিনতাই, লোকজন ঠকানো, অনৈতিক কার্যকলাপ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে, কিন্তু একই ধরনের কার্যকলাপ অন্যব্যক্তির কাছে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রধান অবলম্বন হতেই পারে, কিন্তু এই অদেখা সময়ই কিন্তু সব উত্তর দিয়ে দেবে, খারাপ কর্মফলের ultimate result কখনোই ভালো হতে পারে না বা হয় না।
তাই আমার মনে হয় সব্বাইকে এই ব্যাপারে অন্তর আত্মার নির্দেশ শুনে সময়ের সঠিক সৎব্যবহার করে জীবনটাকে সাজিয়ে নেওয়া এবং উপভোগ করা উচিত।
এক্ষেত্রে উদাহরণ স্বরূপ রাম, শ্যাম, যদু, মধু চার বাল্য বন্ধুর গল্প দিয়েই লেখনীটা আরম্ভ করতে চাই যাদের বয়স বর্তমানে ষাট বছরের আশেপাশে ।
রামের বাবা প্রচুর সম্পত্তির মালিক, ধনী, শিক্ষিত, পূর্বপুরুষের থেকে অঢেল সম্পত্তি প্রাপ্ত ধনী পরিবারের সন্তান, প্রচুর সম্পত্তির মালিক ও রুচিবান,এক পুত্রের বাবা । রামকে উপযুক্ত শিক্ষা, দীক্ষা দিয়ে ও প্রকৃত সন্তানের মত প্রতিপালন করেছিলেন।
রামের প্রকৃত ফেসভ্যালু = রামের বয়স ( তার ষাট বছরের অভিজ্ঞতা) × রামের জন্ম থেকে আজ অবধি খরচ (তার ভরণপোষণ ও উচ্চ শিক্ষা দীক্ষা, বিদেশে যাওয়ার ও শিক্ষা বাবদ খরচ) × পারিবারিক ও সামাজিক রুচিবোধ , (বৃহত্তর পরিবেশ, পরিস্থিতিতে দশরকম লোকজনের সাথে মেলামেশার সুযোগ ও জীবন সমন্ধে পূর্ন জ্ঞান অর্জন করার সুযোগের ব্যাবস্থা করা) × ভালো মন্দ বিচার করে জীবন সমন্ধে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা × পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ইত্যাদির ব্যাপারে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে পরিবারের, সমাজের, রাজ্যের ও দেশের, রাষ্ট্রের উপযুক্ত প্র্শাসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ন দ্বায়িত্বভার বহন করার যোগ্যতা ও ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন।
শ্যামের বাবা ও প্রচুর সম্পত্তির মালিক ও ধনী ব্যক্তি ও তিন সন্তানের পিতা ছিলেন। পূর্বপুরুষের থেকে প্রাপ্ত প্রচুর সম্পত্তির মালিক। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষিত ও রুচিবান ছিলেন না, ফল স্বরূপ শ্যামকে সেই দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়েই অপর্যাপ্ত শিক্ষা দীক্ষা, রুচিজ্ঞান দিয়ে প্রতিপালন করেছিলেন।
শ্যামের প্রকৃত ফেসভ্যালু = শ্যামের বয়স ( তার ষাট বছরের অভিজ্ঞতা) × শ্যামের জন্ম থেকে আজ অবধি খরচ (তার ভরণপোষণ ও শিক্ষা দীক্ষা বাবদ খরচ) × পারিবারিক ও সামাজিক সীমিত রুচিবোধ, মেলামেশার সুযোগ সমন্ধে জ্ঞান অর্জন করার অপরিমিত সুযোগের ব্যাবস্থা করেছিলেন, ফল স্বরূপ শ্যামের যোগ্যতার মাপকাঠি পরিপূর্ন বিকাশের সুযোগ পায় নাই, তার জ্ঞান, শিক্ষা, দীক্ষা, অভিজ্ঞতা ও কর্মক্ষমতা স্থানীয় পরিধি অবধিই বিস্তিত ছিল ।
যদুর বাবা কেবলমাত্র সামান্য সম্পত্তির মালিক ও সাধারণ আয় অর্জন করা পরিবারের সম্পন্ন ব্যক্তি ও পাঁচ সন্তানের পিতা। পূর্বপুরুষের থেকে প্রাপ্ত প্রচুর সম্পত্তির দেনাদার পরিবারের সন্তান । কিন্তু প্রয়োজনীয় শিক্ষিত ও রুচিবান ছিলেন না, ফল স্বরূপ যদুকে সেই দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়েই অপর্যাপ্ত আর্থিক ও শিক্ষা দীক্ষা, অভিজ্ঞতা ও রুচিজ্ঞান দিয়ে প্রতিপালন করেছিলেন।
যদুর প্রকৃত ফেসভ্যালু = যদুর বয়স × যদুর জন্ম থেকে আজ অবধি খরচ (তার ভরণপোষণ ও অপর্যাপ্ত শিক্ষা দীক্ষা বাবদ সীমিত খরচ) × জীবন সমন্ধীয় অতি সাধারণ জ্ঞান অর্জন করার অপরিমিত সুযোগের ব্যাবস্থা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
মধুর বাবা কেবলমাত্র পরিবারের একমাত্র সম্বল একটি রিক্সা গাড়ির মালিক ছিলেন ও ছয় সন্তানের পিতা। পূর্বপুরুষের থেকে প্রাপ্ত প্রচুর ঋনদ্বায় সম্পত্তির পরিবারের সন্তান । কিন্তু কোনো সামান্য শিক্ষা ও রুচিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন না, ফল স্বরূপ মধুকে সেই দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়েই অতি সামান্য আর্থিক সংগতি ও শিক্ষা দীক্ষার ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন।
মধুর প্রকৃত ফেসভ্যালু = মধুর বয়স × মধুর জন্ম থেকে আজ অবধি খরচ (তার ভরণপোষণ ও অতি সামান্য শিক্ষা দীক্ষা বাবদ সীমিত খরচ) × জীবন সমন্ধীয় অতিনগন্য সাধারণ জ্ঞান অর্জন করার অপরিমিত সুযোগের ব্যাবস্থা করতেই অসমর্থ হয়েছিলেন।
উদাহরণটির যবনিকা এখানেই সমাপ্ত করতে পারতাম কিন্তু এই উদ্দেশ্যে কতিপয় জিজ্ঞাস্য অধরা থেকে যেত এবং লিখিত বক্তব্যের উদ্দেশ্য সফল হত না।
কোনো সফল রাষ্ট্র, দেশ, রাজ্য, ইত্যাদি মানে শুধুমাত্র তার ভৌগলিক পরিধি, গাছপালা বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত শহর দিয়ে তৈরি নয়, দরকার দক্ষ্য প্রসাশক, শিক্ষিত, রুচিবান বসবাসকারী জনগণ।
আর তারা দেশের, রাজ্যের বিভিন্ন সাধারণ বসবাসকারী পরিবার থেকেই উঠে আসে।
সব সময়ে উপযুক্ত পরিকাঠামো ও আর্থিক সুযোগ সুবিধা থাকা সত্বে ও সফল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র, বা প্রশাসকের ছেলে মেয়েরা উপযুক্ত ও দক্ষ্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র, বা প্রশাসক তৈরি হন না। ইহার নামই জীবন। মানুষের ইচ্ছেশক্তি থাকলে অসম্ভব কে বাস্তবায়িত করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু আর্থ সামাজিক ও সরকারি স্বীকৃতির উপযুক্ত পরিকাঠামোর সাহায্য, উপরে ওঠার জন্য উপযুক্ত সিঁড়ি। তাই আজকের সময়ে প্রচুর গরিব, সমাজের পিছিয়ে পড়া অশিক্ষিত পরিবার থেকে প্রচুর প্রকৃত মেধাবী শ্রেণী দেশের, রাষ্ট্রের, রাজ্যের ক্ষমতাধর অবস্থায় বিদ্যমান, যেখানে ক্ষমতালোভীদের প্রবেশ একশ ভাগ অবশ্যই নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।
কিন্তু আমাদের দেশের ও অবশ্যই রাজ্যের রাজনৈতিক শাসকদলের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের প্রকৃত সফল সুষ্ঠ রাষ্ট্র, রাজ্য গড়ার জন্য প্রকৃত শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রসাশকের সঠিক প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এখানে রাজনৈতিক শাসকদলের প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদেরই ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিগনকে ক্ষমতার শীর্ষস্থানীয় পদে ব্যবহার করার, সেক্ষেত্রে শীর্ষস্থান পদের অধিকারীদের প্রকৃত শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও ক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
সফল ও সুষ্ঠ রাষ্ট্রের, দেশের, রাজ্যের প্রয়োজন সফল শিক্ষিত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতার, (অবশ্যই রাজনৈতিক নেতা নয়) যাহা কোনো ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে রাষ্ট্রকেই উপযুক্ত সঠিক পরিবেশ, পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো তৈরি করে উপযুক্ত ব্যক্তিদের (রাজনৈতিক রং না বিচার করে) প্রয়োজনে দেশের ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর থেকে সঠিক মাপকাঠিতেই বিবেচনা করে উপযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষমতাসীন করা, তাহলেই রাষ্ট্রের ও দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে ।
Comments
Post a Comment