আমার পরমদয়াল যুগোবতার শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র


আমার পরমদয়াল যুগোবতার শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র এর আশীর্বাদ ও আত্মদর্শন।

প্রথমেই পরমদয়াল যুগোবতার শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের শ্রীচরনে সশ্রদ্ধ রা ও শত শত কোটি প্রণাম জানাই। 

আমি পরমদয়ালের অতিনগন্য একজন ক্ষুদ্র, কিন্তু সৌভাগবান সন্তান মাত্র, পরমদয়াল শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে জীবিত অবস্থায় সচক্ষে দর্শন পাওয়ার, তাঁর আশীর্বাদ পেয়ে দীক্ষিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে অতিব সৌভাগ ও ভাগ্যবান মনে করি।

আমার প্রথম গুরু জন্মদাতা মাতা, পিতা, ও শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র।

তারপর ৠতিক দেবতা এবং পরমদয়াল শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের পরবর্তী প্রজন্মের পূজণীয় আচার্যদেব শ্রী শ্রী দাদাদের শ্রীচরনে আমার ভক্তিপূর্ন প্রনাম জানিয়ে আমার আত্মদর্শন ও আত্মবিশল্সেন করতে চাই।


রা নন্দিতা জয় গুরু সব গুরুভাই দাদা,মা,ভাই বোনেদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে আমার কতিপয় বক্তব্য ও আত্মবিশল্সন আরম্ভ করছি। 


জন্মের পর স্মৃতিকোঠা থেকে তুলে আনা প্রথম দিন, বয়স সম্ভবত আমার তিন কি চার বছর, 1959 বা 1960 সালের ঘটনা হবে, যে দিন দেওঘরে গিয়ে প্রথম শ্রী শ্রী দয়ালকে চাক্ষুষ দর্শন করার ও নাম নেওয়ার  সৌভাগ হয়েছিল, এবং পরবর্তীকালে 12 বছর বয়সে দয়ালের কাছে ভিক্ষা প্রার্থনা করে, দেওঘরের একজন ঋত্বিকদেবতা মহাশয়ের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল, যদিও আমার পিতৃদেব ও ঋত্বিক ছিলেন, আমার পাঁচ দাদা,  দিদি,ভাই,বোনেরই শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র এর শ্রীচরনে আবেদন ও নিবেদন করে শ্রেষ্ঠ পূন্যধাম দেহঘর থেকেই পরমদয়ালের নাম ও দীক্ষা নেওয়ার সৌভাগ অজর্ন করতে পেরেছিলাম।
 
পিতৃদেব কর্মজীবন ভারতীয় রেলের কর্মচারি হওয়াতে প্রতিবছরের তিনটি রেলওয়ে পাস ও ছয়টি  পিটিও পেতেন, দেওঘরের পরমদয়ালকে দর্শন করার ও  বাৎসরিক অনুষ্ঠানে (সেই সময়ে সৎসংগের কেন্দ্রীয় সব অনুষ্ঠানই দেওঘরেই অনুষ্ঠিত হত) যাওয়ার জন্য ব্যবহার করতেন, আর আমরা ও ভাই বোনেরা বাবার লেজুড় ধরে শৈশবকাল হইতেই যখনই পড়াশোনার চাপ কম থাকতো ও বিদ্যালয়ের ছুটি থাকতো, তখনই  পরমদয়ালকে দর্শন করার আবদার ও সুযোগ নিতাম।

সেই সময়ের কথা মনে পড়ে, দেওঘরে গেলে  হাজার হাজার পরমদয়ালের শিষ্য শিষ্যরা  একসাথে আমাদের অস্থায়ী প্যান্ডেলে থাকার ও মনমোহিনী ধামের নিকটবর্তী ময়দানে আনন্দবাজারে (ইস্টভৃতির পরিচয়পত্র ছাড়াই) ধনী দরিদ্র একসাথে বসে প্রসাদ পাওয়ার সৌভাগ হত।

আজ আমার বয়স প্রায় 70 বছর  (2022)।

পরমদয়ালের আর্শীবাদধন্য হয়ে সারা জীবনে কি পেয়েছি,  কি পাই নি তা এখানে লিখে শেষ করা যাবে না। আমার মূল মন্ত্রই ছিল আমার সব সময়ের সাথি পরমদয়ালের আর্শীবাদ প্রাপ্ত বীজ মন্ত্র, প্রাত্যহিক ইস্টভৃতি, সুযোগ ও সময় মতো জজন, যাজন, উষা নিশায় মন্ত্র সাধন ও প্রাথর্না। জীবনের এই সুদীর্ঘ সময় কালে কখনো ভালো,  কখনো খারাপ ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল,কিন্তু শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র এর আর্শীবাদধন্য হয়ে সব সময় ই সসম্মানের সহিত খারাপ ঘটনার মোকাবিলা করার শক্তি, সাহস ও সুযোগ অজর্ন করেছিলাম।

কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে বছরে 300 দিনই  ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াবার ও যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল, তাই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন ধর্মস্থানে কৌতুহল বশত সেইসব ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষজনের ধর্মস্থানের ভিন্ন ধরনের ধর্মীয় রীতিনীতির ধরন ধারন জানার আগ্রহ নিবারন করার সুযোগ হয়েছিল। 

পরমদয়ালকে অন্তরের মাঝে রেখেই সেইসব ধর্ম স্থলের পরিদর্শন করার আগ্রহ নিবারন করতাম,  দেখতাম সেই সব অ-সৎসংগী ধর্মস্থানের সঞ্চালক মন্ডলিরা গরিবদুঃখিদের,  ক্ষুধার্ত মানুষদের সেবা করার জন্য তারা ছটফট করতেন,  দারিদ্র নারায়ন সেবা করার সুযোগ তারা কখনোই হাতছাড়া করতেন না, এবং তার উপযুক্ত আয়োজন রাখতেন,  কেননা আমার প্রথম শিক্ষা, মানবধর্মর প্রথম পাঠ, জীবে প্রেম করে যে জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। 

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র এর সহস্থে লিখিত বানী সত্যানুসরনের প্রথম পাঠ - অর্থ, মান, যশ ইত্যাদি পাওয়ার আশায় আমাকে ঠাকুর সাজিয়ে ভক্ত হয়ো না, সাবধান হও - ঠকবে, তোমার ঠাকুরত্ব না জাগলে কেহ তোমার কেন্দ্র ও নয়, ঠাকুর ও নয়, ফাঁকি দিলে পেতে হবে তা ।

শৈশব থেকেই শিখে আসছি পরমদয়াল (জীবন্ত ভগবান) আমার কাছে আমার পরিবারের একজন অবিচ্ছেদ্য অংগ। বাবা, মা, ভাই, বোনের মত তিনি ও আমার পরিবারের অবিচ্ছেদ্য সদস্য, প্রাত্যহিক জীবনে দিনের প্রথমেই তাকে খাবার না খাইয়ে, নিবেদন না করে, বাবা মা কে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী না খাইয়ে,আমি জল গ্রহণ ও করতে পারিনা, তাদের ভরণপোষণ এর দায়িত্ব (আমার সামর্থ্য অনুযায়ী) আমারই (ইস্টভৃতির  প্রসংগে আমার ৠতিক দেবতার কাছ থেকে পাওয়া প্রথম শিক্ষা) । 


পরমদয়াল শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র এর সহস্থে লিখিত বানী। ।।

ভারতের অবনতি (degeneration) তখন| থেকেই আরম্ভ হয়েছে, যখন-থেকে ভারতবাসীর
কাছে অমূৰ্ত্ত ভগবান অসীম হয়ে উঠেছে—ঋষি বাদ | দিয়ে ঋষিবাদের উপাসনা আরম্ভ হয়েছে। | ভারত! যদি ভবিষ্যৎ-কল্যাণকে আবাহন করতে | চাও, তবে সম্প্রদায়গত বিরােধ ভুলে জগতের। পূৰ্ব্ব-পূৰ্ব্ব গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধাসম্পন্ন হও—আর। তােমার মূর্ত ও জীবন্ত গুরু বা ভগবানে আসক্ত
(attached) হও, আর তাদেরই স্বীকার কর— যারা তাকে ভালবাসে। কারণ, পূর্ববর্তীকে অধিকার করিয়াই পরবর্তীর আবির্ভাব (সত্যানুসরনের সর্বপ্রথম পাঠ)।

আজকাল অনেক গুরু ভাই বোনেদের বক্তব্য পরমদয়ালের সিংহাসনে অনান্য পূর্ববর্ত্তি ভগবানদের ফটো রাখা উচিত কিনা, এবং অনেক গুরুজন ও ৠতিক দেবতার বক্তব্য পরমদয়ালের সিংহাসনে শ্রী শ্রী বড়দা ও অন্যান্য আচার্য দেবদের ফটো রাখা যেতে পারে,  কিন্তু ভগবান বিষ্ণু, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,ভগবান রাম, ভগবান শ্রী হরি, ভগবান নারায়ন, ভগবান শিব, ভগবান মহেশ্বর, ভগবান মহাদেব, ভগবান বৌদ্ধ, ভগবান রামকৃষ্ণ, ভগবান শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর  ইত্যাদির  ফটো এক সিংহাসনে রাখা অনুচিত (যাহা  ইতিহাসকে ও পরমদয়ালের বানীকে অস্বীকার করার সামিল), এই ধর্মীয় দৃষ্টি ভঙ্গি কি সৎসংগের যে কোনো মন্দিরে প্রযোজ্য,  নাকি প্রত্যেক সৎসংগীদের ঘরে ও প্রযোজ্য,  এই বিষয়ে উপযুক্ত আলোকপাত প্রয়োজন। 

তাহা হইলে পরমদয়ালের শ্রীহস্থে লিখিত বানী পূর্ববর্তীকে অধিকার করিয়াই পরবর্তীর আবির্ভাব বানীটি বোধগম্য হল না ।

আমার আত্মদর্শন ও আত্মবিশল্ষেন অনুযায়ী শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র এর সহস্থে লিখিত বানী  সত্যানুসরন আমাদের কাছে মহাভাগবত গীতা,বেদ, পূরান, উপনিষদ  ইত্যাদির সমতুল্য , তাই আমাদের জীবনে বাঁচার,বাড়ার,চলার, মূল পথপ্রদর্শকই বা গাইডলাইন হল সত্যানুসরন, সমস্ত দীক্ষিত সৎসংগীদের সারা জীবনে দৈনন্দিন জীবনে চলার,  বাঁচার,বাড়ার মূল মন্ত্রই আছে সত্যানুসরনের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ পৃষ্ঠায় লেখা আছে,  যাহা শ্রী শ্রী পরমদয়াল তাঁর এক অতিব নিকট বন্ধু ও শিষ্যকে,  (শিষ্যের কর্ম জীবনে পরমদয়ালের কাছ থেকে দুরে যাওয়ার সময়, শিষ্যেরই প্রাথর্না ও অনুরোধে) পরমদয়ালের সহস্থের লিখিত বানী।

আমি পরমদয়ালের একজন অতি নগণ্য সৌভাগ (পরমদয়ালের জীবিত অবস্থায় দর্শন করার সুযোগ পাওয়ার জন্য ) সন্তান। 

আমার বক্তব্য কোনো গুরুজনস্থানীয় শ্রী শ্রী আচার্য দেবদের, সৎসংগী দাদা, মা, ভাই বোনেদের, ৠতিকদেবতাদের মানসিক ভাবে আঘাত করলে ক্ষমা প্রার্থনীয়, কেননা এটা আমার সম্পূর্ণ ও নিজের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকপাত মাত্র। আমি যাহাকে সোনা ধাতুর ভাবতে পারি, সেটা অন্য কারোর কাছে আলাদা হতেই পারে, এই ব্যাপারে কোনো ৠতিকদেবতা, দাদাদের মতামত ও মতাদর্শ পেলে নিজেকে সঠিক ও পরমদয়ালের সঠিক  সন্তান মনে করার সৌভাগ অজর্ন করব। 

পরমদয়াল,পরমদয়ালের পরবর্তীকালে পূজনীয় শ্রী শ্রী আচার্যদেব দাদাদের ও সৎসংগের সমস্ত দাদা,  মা, ভাই, বোনেদের আমার সশ্রদ্ধ রা, জয়গুরু, প্রনাম জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করলাম। 

জয় গুরু । ।।।।।।।।।

Comments

Popular posts from this blog

৵ সুন্দরবনের বিভিষীকা 'কু', পুনঃ প্রচারিত পর্ব ।

জন্মদিন

৵৵৵ History of Kolkata Fire Brigade , Episode - 67, Serial - 1/1.