করোনা মানুষের জীবনে আশীর্বাদ না অভিশাপ

করোনা মানুষের জীবনে আশীর্বাদ না অভিশাপ। 

আলোচ্য বিষয় নিয়ে একটু সমালোচনা হতেই পারে। 

প্রকৃতি আপনার আমার ইচ্ছে মতো নিয়মে চলবে না, প্রকৃতি প্রকৃতির নিয়মেই চলবে ।

সূর্য, চন্দ্র, আবহাওয়া, জল, বায়ু, মাধ্যাকর্ষণের শক্তি ইত্যাদির নিয়ম প্রকৃতির নিয়মেই তৈরি আমরা জানি।

যখনই তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের শিক্ষিত মানুষ নিজের প্রয়োজনে বা স্বার্থে, প্রকৃতির নিয়মকে উলঙ্ঘন করার চেষ্টা করেছে, তখনই মানুষ নিজের, নিজ পরিবারের, সমাজের, রাজ্যের, দেশের, এই ব্রমান্ডের  এবং অন্যান্য পশু, পাখি, জীব, জন্তু এবং প্রানিদের জীবনে বিশাল বিপর্যয় ডেকে এনেছে। যখনই মানুষ  নিজের প্রয়োজনেই সমাজ সংস্কারকের নামে অহেতুক প্রাকৃতিক পরিবেশ, গাছপালা, জঙ্গল কেটে , পাহাড়, পর্বতের শান্ত পরিবেশ ধংস করে রাস্তা ঘাট, জনবসতি ও জনবহুল লোকালয় ও শহরের সৃষ্টি  করেছে , নদী নালার গতিপথ পরিবর্তন করেছে, তখনই মানুষ ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আর ও বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে ।

এই করোনা  মানুষেরই সৃষ্টি এবং মানুষ তার জীবনে অভিশাপ ডেকে এনেছে। 

জীবনে বাঁচতে গেলে আলো ও অন্ধকার দুটো কে নিয়েই বাঁচতে হয়।

জীবনের অন্ধকার দিক হল ---------

করোনা অবশ্যই সমস্ত পৃথিবী জুড়ে মানুষের জীবনে দক্ষ্যযোগ্য বাঁধিয়ে অভিশাপের ছায়া ফেলেছে। কত মানুষ তাঁর নিজের পরিবারের প্রধান পরিজনদের হারিয়েছেন। কত লোক মাতা, পিতা, ভাই, বোন, ছেলে, মেয়ে,  আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধব হারিয়েছেন তার শেষ নেই। কত মানুষ কর্মহীন,কর্মক্ষমতাহীন, অথর্ব হয়ে না মরে জীবন অতিবাহিত করছেন তার হিসাব সঠিক ভাবে কেউ জানেন কিনা সন্দেহ আছে (যাহা controlled authority র কাছে  থাকা  উচিত ছিল)। 

করোনার জন্য প্রচুর সুস্থ মানুষ ও অসুস্থ হয়ে (মানসিক, অর্থনৈতিক, শারীরিক ও বাহ্যিকভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায়) জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। সমাজ তখনই সুস্থ থাকে যখন সমাজে বসবাসকারী প্রানিরা ও সুস্থ থাকে। 

মানুষের জীবনে স্বাভাবিক শিক্ষা, দীক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক জীবন যাত্রা ইত্যাদিতে করোনার অভিশাপ অবশ্যই অনস্বীকার্য। 

কিন্তু করোনা মানুষের জীবনের আশীর্বাদের অংশ ও অনস্বীকার্য। 

করোনা----মানুষের জীবনে---- আবার আশীর্বাদ, হাস্যকর ব্যাপার তাই না । 

অপ্রতিকুল পরিবেশে কি করে জীবন যাপন নিবার্হ করতে হয় করোনা পরবর্তীকালে মানুষ নিজেকে সেই ভাবে পরিবর্তন করে নিজেকে তৈরি করার সুযোগ লাভ করার  সৌভাগ অজর্ন করতে পেরেছে। করোনা পরবর্তীকালে মানুষ গতানুগতিক জীবনধারার অভ্যস্ত রাস্তা থেকে নিজেকে মুক্ত করে নতুন নতুন চিন্তাধারা অবলম্বন করে বাঁচতে শিখেছে। মানুষ তাদের নতুন নতুন বিচার ও বুদ্ধির প্রয়োগ করতে শিখেছে।  স্বার্থ কেন্দ্রিক থেকে কিছুটা হলেও সমাজ কেন্দ্রিক হতে শিখেছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রয়োজন বুঝতে শিখেছে। মানুষ তার নিজের ভেতর অব্যবহৃত বিচার, বুদ্ধির, শিক্ষার অফুরন্ত অব্যবহৃত শক্তিকে প্রয়োগ করতে শিখেছে। 

তাই আমরা অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত জনগণ  অবশ্যই ধারণা করতে পারি, করোনা মানুষের জীবনে আশীর্বাদ।

অবশ্যই একটি বৃক্ষ পুরোনো হয়ে গেলে সময়ের নিয়মে তার ফল, ফুল, শুকনো ডালপালা, শুকনো  পাতা ঝড়ে পরে,সেইভাবে করোনার সময়ে আমরা  আমাদের গুরুজন, অসুস্থ আত্মীয়স্বজন,পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের ঝড়া পাতার মতো আমাদের জীবনথেকে হারিয়ে ফেলেছি।

এটাই বাস্তব সত্য , 

সূর্যের উদয় ও অস্থ যাওয়ার মত এটাই  দুনিয়ার সবচেয়ে অলিখিত বড় নির্মম সত্য। ভবিষ্যতের মানুষকে সেটা ঠিক মতো বোধগম্য করে ভবিষ্যতের কর্ম পদ্ধতি ঠিক করতে হবে।

আজকাল বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে  আমরা জানতে পারছি,  একশো বছর আগে মানুষকে একই ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছিল,  কিন্তু এই মিডিয়া হাউস গুলোর কাছে যখন এই ধরনের গরম গরম একশো বছর আগেকার পুরানো সংবাদ সংগ্রহের রেকর্ড  ও অতিতের একই ধরনের বিপর্যয়ের খবর থেকে থাকে তাহলে এই দ্বাবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে সেই বিপর্যয় রোধ করার প্রকৃত চেষ্টা আগাম নেওয়া কি সম্ভব ছিল না,  তাহলে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী কিছু ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আজ হারিয়ে যেতে হতো না, পথে বসতে হতো না,  ধংসের বলি হতে হত না।

ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয়ের প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান ও আগাম ভবিষ্যতের কর্মপদ্ধতি আমরা সাধারণ স্বল্প শিক্ষিত, অশিক্ষিত, দারিদ্র জনগন সমাজ সংস্কারকদের কাছে আশা রাখতে পারি কি    ?????


Comments

Popular posts from this blog

৵ সুন্দরবনের বিভিষীকা 'কু', পুনঃ প্রচারিত পর্ব ।

জন্মদিন

৵৵৵ History of Kolkata Fire Brigade , Episode - 67, Serial - 1/1.